সুজিতের মুখোমুখি বসিয়ে জেরা? ইডি দফতরে দক্ষিণ দমদমের প্রাক্তন চেয়ারম্যান পাচু রায়
নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কী ধরনের অনিয়ম হয়েছিল, সেই বিষয়েই মূলত জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে প্রাক্তন চেয়ারম্যানকে
Truth of Bengal: পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে নাটকীয় মোড় নিয়ে দক্ষিণ দমদম পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান পাচু রায়কে তলব করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। সোমবার সকালেই সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে অবস্থিত ইডির দফতরে হাজিরা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। সেই নির্দেশ মেনে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরসভার বিভিন্ন পদে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কী ধরনের অনিয়ম হয়েছিল, সেই বিষয়েই মূলত জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে প্রাক্তন চেয়ারম্যানকে।
এই মামলার জল গড়িয়েছে আরও অনেক দূর। পুরনিয়োগ কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার অভিযোগে সম্প্রতি রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুকে গ্রেফতার করেছে ইডি। বর্তমানে তিনি ইডির হেফাজতেই দিন কাটাচ্ছেন। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে, তদন্তের স্বার্থে এবং তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে পাচু রায়কে সরাসরি সুজিত বসুর মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করা হতে পারে। দক্ষিণ দমদম পুরসভার নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গেই সুজিত বসুর নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে বলে মনে করছেন আধিকারিকেরা।
ইডির দাবি অনুযায়ী, দক্ষিণ দমদম পুরসভায় বেআইনিভাবে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার জন্য বিপুল সংখ্যক প্রার্থীর নাম সুপারিশ করা হয়েছিল, যার সঙ্গে সরাসরি যোগ ছিল সুজিত বসুর। তদন্তকারীদের হাতে আসা একটি তালিকায় প্রায় ১৫০ জন চাকরিপ্রার্থীর নাম রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এই সমস্ত অযোগ্য প্রার্থীদের অনৈতিকভাবে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে বিপুল আর্থিক ও অন্যান্য অন্যায্য সুবিধা ভোগ করেছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী। এই বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্যই গত সপ্তাহের সোমবার সুজিত বসুকে সিজিও কমপ্লেক্সে তলব করা হয়েছিল এবং টানা সাড়ে দশ ঘণ্টা ম্যারাথন জেরার পর রাতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীকালে আদালত তাঁকে ১০ দিনের ইডি হেফাজতের নির্দেশ দেয়।
সুজিত বসু যখন কেন্দ্রীয় এজেন্সির লকআপে রয়েছেন, ঠিক তখনই সোমবার সকালে পাচু রায়ের এই হাজিরা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এর আগে এই একই দুর্নীতি মামলায় সিবিআই যে চার্জশিট জমা দিয়েছিল, সেখানেও পাচু রায়ের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল। ইতিপূর্বেও পুরনিয়োগ মামলার সুবাদে ইডি তাঁকে সিজিও কমপ্লেক্সে ডেকে পাঠিয়েছিল এবং তিনি হাজিরাও দিয়েছিলেন। অবশ্য অতীতে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে প্রাক্তন চেয়ারম্যান তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন যে নিয়োগের বিষয়ে তিনি কোনও টাকা নেননি এবং কেবল তাঁকে হেনস্থা করার উদ্দেশ্যেই বারবার কেন্দ্রীয় সংস্থা ডেকে পাঠাচ্ছে। এখন দেখার, প্রাক্তন মন্ত্রীর মুখোমুখি বসিয়ে জেরায় নতুন কোনও তথ্য উঠে আসে কি না।






