কলকাতা

পূর্ব ভারতে ক্যান্সার চিকিৎসায় রুবি হসপিটালের উদ্যোগ

ওই ইউনিট টির উদ্বোধন করেন হাসপাতালের ডিরেক্টর ডাঃ সৌরভ দত্ত, রুবি দত্ত, প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ডাঃ কমল কে দত্ত, ডাঃ জয়ন্ত ভট্টাচার্য, শুভাশিস দত্ত সহ হাসপাতালের কর্মকর্তারা।

Truth of Bengal: রাহুল চট্টোপাধ্যায়: রুবি জেনারেল হসপিটাল ও রুবি ক্যান্সার সেন্টার বিগত ৩২ বছর ধরে উন্নত মানের মাল্টি-স্পেশালিটি চিকিৎসা পরিষেবা প্রদান করে আসছে। ২০১৪ সালে ( ক্লিনাক নাইন উইথ এফ এফ এফ টেকনোলজি) এবং ২০২৪ সালে (ভেরিয়ান ট্রু বিম ৩.০) — পূর্ব ভারতের মধ্যে সর্বপ্রথম অত্যাধুনিক রেডিয়েশন থেরাপি মেশিন চালু করে রুবি ক্যান্সার সেন্টার । কলকাতায় একমাত্র ডিজিটাল পি ই টি -সি টি সুবিধাও রয়েছে ওই হাসপাতালেই। পুনর্জন্মমূলক চিকিৎসা (রি জেনারেটিভ মেডিসিন) ও হেমাটো-অঙ্কোলজির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সাধিত হয়েছে অত্যাধুনিক বিশ্বমানের স্টেম সেল এন্ড সেলুলার থেরাপি ট্রান্সপ্লান্টেশন ইউনিট , যা সাধারণভাবে বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট (বিএমটি)ইউনিট নামে পরিচিত। ওই ইউনিট টির উদ্বোধন করেন হাসপাতালের ডিরেক্টর ডাঃ সৌরভ দত্ত, রুবি দত্ত, প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ডাঃ কমল কে দত্ত, ডাঃ জয়ন্ত ভট্টাচার্য, শুভাশিস দত্ত সহ হাসপাতালের কর্মকর্তারা।
আন্তর্জাতিক মানের এই নতুন ইউনিটটি শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক উভয়ের জন্য জটিল রক্তজনিত রোগের উন্নত ও জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা প্রদানের উদ্দেশ্যে নির্মিত হয়েছে।

যার মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ ৬টি বিশেষায়িত আইসোলেশন রুম, যেখানে উন্নত ব্যক্তিগত এইচভিএসি সিস্টেমের মাধ্যমে এইচ ই পি এ ফিল্ট্রেশন সুবিধা রয়েছে, যা সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করবে।স্পর্শবিহীন সম্পূর্ণ বায়ুরোধী স্বয়ংক্রিয় দরজা।
সমস্ত ওয়াশরুমে টাচ সেন্সর যুক্ত আধুনিক প্লাম্বিং ফিটিংস। সম্পূর্ণ আরও এবং ইউভি পরিশোধিত পানীয় জলের ব্যবস্থা।ইউনিটের মধ্যেই ডায়ালিসিস ও উন্নত ক্রিটিকাল কেয়ার সাপোর্ট সিস্টেম -এর সুবিধা।আধুনিক স্টেম সেল এফিরেসিস রুম ও স্টেম সেল প্রোডাক্ট সংরক্ষণের ব্যবস্থা।ইন-হাউস ব্লাড ইরেডিয়েশন ও উন্নত ব্লাড সেন্টারের সুবিধা।

শিশু রোগীদের পরিবারের সদস্যদের থাকার জন্য আন্তে রুম সুবিধা।সমন্বিত চিকিৎসা পরিষেবা র ক্ষেত্রে এই কেন্দ্রে অটোলোগাস ও অ্যালো জেনেরিক — উভয় ধরনের ট্রান্সপ্লান্ট করা হবে, যার মধ্যে ম্যাচ শিবলীং, আনরিলেটেড, হ্যাপোলয়ডেনটিকাল ট্রান্সপ্লান্ট অন্তর্ভুক্ত।উন্নত সেলুলার থেরাপি,এই ইউনিটে সি এ আর- টি সেল থেরাপি এবং বিশেষ ধরনের স্টেম সেল ট্রিটমেন্ট -এর সুবিধাও থাকবে।বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল , এই ইউনিটে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অনকোলজিস্ট,হেমাটোলজিস্ট,নার্স, টেকনিশিয়ান-দের একটি অভিজ্ঞ বহুমুখী দল কাজ করবেন। পাশাপাশি রুবি জেনারেল হসপিটাল-এর সম্পূর্ণ মাল্টি স্পেশালিটি ক্লিনিকাল টিম-এর সহায়তাও থাকবে।রোগী পরিষেবায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপের ক্ষেত্রে এই ইউনিট লিউকোমিয়া লিম্ফোমা এপ্লাসটিক অ্যানিমিয়া, সিকেল সেল ডিজিজ-এ আক্রান্ত রোগীদের জন্য নতুন আশার আলো নিয়ে এসেছে, যাঁদের আগে এমন উন্নত চিকিৎসার সুযোগ সীমিত ছিল। ডেডিকেটেড অ্যাফিয়ার্সিস ফেসিলিটি এবং সেলফ সাফিসিয়েন্ট স্ট্যানডালন ইউনিট থাকার ফলে রোগীরা একটি পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা পরিষেবা পাবেন।

রুবি জেনারেল হসপিটালের চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর ডাঃ কমল কুমার দত্ত বলেন — এই অত্যাধুনিক ইউনিট বহু রোগীর জীবন বাঁচাবে ও তাঁদের নতুন করে জীবনের সুযোগ করে দেবে। প্রখ্যাত হেমাটোলজিস্ট ও বোন ম্যারো প্রতিস্থাপন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডাঃ তুফান কান্তি দোলুই বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও প্রচলিত ভুল ধারণা নিয়ে বিশদে আলোচনা করেন। ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের প্রথম বোন ম্যারো প্রতিস্থাপিত রোগী, থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত ছাত্রী সৃজনি সাহু, যিনি উচ্চমাধ্যমিকে অত্যন্ত ভালো ফল করেছেন এবং ভবিষ্যতে মনোবিদ হতে চান, তাকে রুবি দত্ত সংবর্ধনা জানান।

রুবি ক্যান্সার সেন্টার এন্ড রিসার্চ ফাউন্ডেশন আগামী তিন বছর তাঁর পড়াশোনার আর্থিক দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা করেছে।
অনুষ্ঠানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল সার্জিক্যাল অনকোলজিস্ট ডাঃ ঐন্দ্রিলা বিশ্বাস -এর একটি জটিল সার্জারির সফল উদাহরণ। ত্রিপুরার বাসিন্দা ১৭ বছর বয়সী তরুণ আইআইটি পরীক্ষার্থী সৌপ্তিক ভট্টাচার্য ইউইং সারকোমা -তে আক্রান্ত হন। তাঁর ক্ষেত্রে বোন টিউমার এক্সিশন ও রিকনস্ট্রাকশন -এর অত্যন্ত জটিল অস্ত্রোপচার করা হয়। আগে এই ধরনের ক্ষেত্রে অঙ্গচ্ছেদ করাই একমাত্র উপায় ছিল, কিন্তু বর্তমানে অত্যন্ত পরিকল্পিত অস্ত্রোপচার ও কাস্টমাইজড মেগা প্রস্থেসিস -এর মাধ্যমে লিম্ব সালভেজ ও রিকনস্ট্রাকশন সম্ভব হয়েছে। গত সপ্তাহে তিনি হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়া পান ও ওই অনুষ্ঠানে নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন।

Related Articles