১ জুলাই থেকে দেশে কার্যকর হচ্ছে নতুন আইন ‘ভিবি জি রামজি’, কী কী সুবিধা পাবেন শ্রমিকরা?
সোমবার কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রক একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে এই বড়সড় পরিবর্তনের কথা ঘোষণা করেছে।
Truth of Bengal: ১ জুলাই থেকে দেশজুড়ে কার্যকর হতে চলেছে নতুন গ্রামীণ কর্মসংস্থান আইন ‘বিকশিত ভারত গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ)’ বা ‘ভিবি জি রামজি’। দীর্ঘদিনের পরিচিত মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চিতকরণ আইন (মনরেগা)-এর স্থলাভিষিক্ত হচ্ছে এই নতুন প্রকল্প। সোমবার কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রক একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে এই বড়সড় পরিবর্তনের কথা ঘোষণা করেছে।
নতুন এই আইনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হল কাজের দিন বৃদ্ধি। এতদিন মনরেগা প্রকল্পের অধীনে গ্রামীণ শ্রমিকরা বছরে ১০০ দিনের কাজের গ্যারান্টি পেতেন, তবে নতুন ‘ভিবি জি রামজি’ আইনে সেই সময়সীমা বাড়িয়ে ১২৫ দিন করা হয়েছে। মন্ত্রকের নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, দেশের প্রতিটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে আগামী ১ জুলাই থেকেই এই নিয়ম কার্যকর হবে। নিয়ম অনুযায়ী, আবেদনের ১৫ দিনের মধ্যে কাজ দিতে না পারলে সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের নির্দিষ্ট হারে বেকার ভাতা প্রদান করতে হবে।
প্রশাসনিক কাজের সুবিধার জন্য কেন্দ্র স্পষ্ট করেছে যে, ১ জুলাইয়ের আগে পর্যন্ত মনরেগা প্রকল্পে চলা সমস্ত কাজকে নতুন আইনের অধীনে নিয়ে আসা হবে। কোনো কাজই মাঝপথে বা অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় ফেলে রাখা হবে না। পাশাপাশি, নতুন শ্রম কার্ড বা ‘লেবার কার্ড’ তৈরির প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বর্তমানে ভেরিফায়েড কার্ডগুলোকেই বৈধ হিসেবে গণ্য করা হবে। ফলে কার্ড পরিবর্তন নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর আশঙ্কা থাকছে না।
তবে কেন্দ্রের এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে ইতিমাজেই রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। কংগ্রেস এই নতুন আইনকে স্রেফ ‘নাম বদলের রাজনীতি’ বলে কটাক্ষ করেছে। বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশের দাবি, এই বিজ্ঞপ্তির মধ্যে নতুনত্ব কিছুই নেই, এটি সরকারের নাম কেনার একটি অন্তঃসারশূন্য প্রচেষ্টা মাত্র। তাঁর মতে, এত বড় একটি আইন প্রয়োগ করার আগে প্রতিটি রাজ্য সরকারের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনার প্রয়োজন ছিল, যা কেন্দ্র এড়িয়ে গিয়েছে। সব মিলিয়ে, নতুন অর্থবর্ষের মাঝামাঝি সময়ে গ্রামীণ রোজগারের এই ভোলবদল নিয়ে এখন জাতীয় রাজনীতি সরগরম।






