পুর নিয়োগ দুর্নীতিতে ধৃত সুজিত বসু! স্বাস্থ্য পরীক্ষা সেরে আদালতের পথে প্রাক্তন মন্ত্রী
১৫০ জন অযোগ্যকে চাকরির সুপারিশ? সুজিতের গ্রেফতারিতে পর্দাফাঁস নিয়োগ দুর্নীতির বড় চক্রের
Truth of Bengal: পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অবশেষে গ্রেফতার করা হলো বিধাননগরের সদ্য-পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী তথা প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুকে। সোমবার রাত সোয়া ৯টা নাগাদ সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে ইডির দফতরে তাঁকে গ্রেফতারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। মঙ্গলবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাঁকে বিধাননগর হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখান থেকে সরাসরি ব্যাঙ্কশাল আদালতের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন তদন্তকারীরা।
১০ ঘণ্টার ম্যারাথন জেরা ও গ্রেফতারি
সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় নিজের আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে ইডি দফতরে হাজিরা দিয়েছিলেন সুজিত বসু। দীর্ঘ সাড়ে ১০ ঘণ্টা ধরে তাঁকে দক্ষিণ দমদম পুরসভায় বেআইনি নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ইডি সূত্রে দাবি, তদন্তে সুজিত বসুর দেওয়া উত্তরে একাধিক অসঙ্গতি পাওয়া গিয়েছে। এরপরই রাতে তাঁকে গ্রেফতার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উল্লেখ্য, নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর এটিই ছিল তাঁর প্রথম হাজিরা।
১৫০ জনের চাকরির সুপারিশ ও কোটি টাকার লেনদেন?
ইডির অভিযোগ, দক্ষিণ দমদম পুরসভায় অন্তত ১৫০ জন চাকরিপ্রার্থীর নাম বেআইনিভাবে সুপারিশ করেছিলেন সুজিত বসু। বিনিময়ে তিনি বড় অঙ্কের আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন বলে তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা। ইডি সূত্রে খবর, দুর্নীতির মাধ্যমে উপার্জিত সেই টাকা বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই তাঁর একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের নথি খতিয়ে দেখছেন আধিকারিকেরা। এর আগে সুজিতের বাড়ি, অফিস এমনকি তাঁদের পারিবারিক রেস্তরাঁতেও তল্লাশি চালিয়েছিল কেন্দ্রীয় সংস্থা।
নীরব সুজিত, তৎপর ইডি
মঙ্গলবার সকালে হাসপাতাল থেকে বেরোনোর সময় সংবাদমাধ্যমের একাধিক প্রশ্ন এড়িয়ে যান সুজিত বসু। মুখে কুলুপ এঁটে কড়া পুলিশি ঘেরাটোপে গাড়িতে উঠে পড়েন তিনি। ইডি সূত্রে জানানো হয়েছে, তাঁকে আজ বিশেষ সিবিআই আদালতে হাজির করিয়ে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হবে। নিয়োগ দুর্নীতির জাল কতদূর বিস্তৃত এবং এই চক্রে আর কারা জড়িত, তা জানতেই সুজিতকে জেরা করতে চাইছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট।






