“বাঙালিকে বাংলার মাছ খাওয়াবে বিজেপি!”, পাত পেরে মাছ-ভাত খেয়ে মমতাকে তোপ দিলীপের
ক্ষমতায় এসেই পাতে ‘কালিয়া-কোপ্তা’! কলকাতায় মাছ উৎসবে গিয়ে তৃণমূলকে ধুয়ে দিলেন দিলীপ ঘোষ
Truth of Bengal: নির্বাচনের আগে প্রচার ছিল, বিজেপি ক্ষমতায় এলে নাকি বাঙালির মাছ-মাংস খাওয়া বন্ধ করে দেবে। কিন্তু কুর্সিতে বসার ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই সেই প্রচারকে কার্যত নস্যাৎ করে দিল গেরুয়া শিবির। রবিবার কলকাতায় জাঁকজমকপূর্ণ ‘মাছ উৎসব’-এ সামিল হয়ে ফের একবার ‘মাছ-রাজনীতি’ উসকে দিলেন নবনির্বাচিত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তাঁর সঙ্গে ছিলেন মানিকতলার জয়ী বিজেপি প্রার্থী তথা হবু বিধায়ক তাপস রায়। দিলীপের স্পষ্ট বার্তা, “অন্ধ্র নয়, বাঙালিকে এবার বাংলার মাছ খাওয়াবে বিজেপি।”
মিথ্যাচারের জবাব থালা ভর্তি মাছে!
শনিবার ব্রিগেডের মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী এবং দিলীপ ঘোষরা শপথ নেওয়ার পরেই রবিবার আমহার্স্ট স্ট্রিটে বিজেপি কর্মীদের উদ্যোগে এই বিশেষ উৎসবের আয়োজন করা হয়। সেখানে দিলীপ ঘোষ বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এতদিন মিথ্যা কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন। বলেছিলেন বিজেপি এলে নাকি মাছ খাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে। আমরা সেই মিথ্যাচারের উত্তর মুখে নয়, কাজে দেব। তাই ক্ষমতায় আসার পর বিজেপি কর্মীরা প্রথমেই মানুষকে পেট পুরে মাছ-ভাত খাওয়াচ্ছে।”
বাংলার মাছ বনাম অন্ধ্রের মাছ
দিলীপ ঘোষের অভিযোগ, গত ১৫ বছরে পশ্চিমবঙ্গকে মাছে স্বনির্ভর করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে তৃণমূল সরকার। ফলে বাঙালিকে অন্ধ্রপ্রদেশের হিমঘরের মাছের ওপর ভরসা করতে হতো। তাঁর দাবি, “তৃণমূলের আমলে মাছেও সিন্ডিকেট চলত। এবার সেই তোলাবাজদের দিন শেষ। বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলি থেকে মাছ আসত বলেই এতদিন বাংলার মানুষ মাছ-ডিম খেতে পেতেন। এবার বাংলাতেই সেই উৎপাদন বাড়ানো হবে।”
“মাছ খেত শুধু তোলাবাজরা!”, বিস্ফোরক তাপস রায়
অনুষ্ঠানে উপস্থিত হবু বিধায়ক তাপস রায়ও তৃণমূল সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, “বাঙালির মাছ-ভাত মমতাই বন্ধ করে দিয়েছিলেন। এতদিন তৃণমূলের তোলাবাজরা মানুষের ভাগ কেড়ে নিয়ে মাছ খেত। এবার মাছ যাতে সাধারণ মানুষের সস্তায় পাতে পৌঁছায়, সেই ব্যবস্থা ভারতীয় জনতা পার্টি করবে।”
উল্লেখ্য, ভোটের প্রচারে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বও বাংলায় এসে প্রকাশ্যে মাছ খেয়েছিলেন। এবার সরকার গঠনের পর এই ‘মাছ উৎসব’ আসলে আমজনতার কাছে বিজেপির ‘বাঙালি ভাবমূর্তি’ তুলে ধরারই একটি কৌশল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। একদিকে নবান্নে নতুন মন্ত্রীদের কাজ শুরু, অন্যদিকে রাস্তায় নেমে মাছ-ভাত জনসংযোগ, জোড়া ফলায় বিঁধতে চাইছে পদ্ম শিবির।






