‘এ জয় হিন্দুত্বের, এ জয় মোদিজির!’, ভবানীপুরে ঐতিহাসিক জয়ের পর হুঙ্কার শুভেন্দুর
ভবানীপুরে মমতা-বধ! নন্দীগ্রামেও জয়ী শুভেন্দু, ছুঁয়ে ফেললেন ১৯৬৭-এর ইতিহাস
Truth of Bengal: সোমবার, ৪ মে, ২০২৬। পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী ইতিহাসে আজ এক স্মরণীয় দিন। ভবানীপুর কেন্দ্রে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাস্ত করে এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করলেন শুভেন্দু অধিকারী। শাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের বাইরে যখন তিনি জয়ের শংসাপত্র হাতে বেরোলেন, তখন সমর্থকদের উল্লাসে তখন ভাসছে চারিদিক। এই জয় কেবল একটি আসনের নয়, বাংলার রাজনীতিতে এক ‘মহা-পরিবর্তন’-এর প্রতীক।
হিন্দুত্বের জয়, মোদির জয়: শুভেন্দু
ভবানীপুরের মাটিতে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু অধিকারী এদিন অকপটে জানালেন তাঁর জয়ের রসায়ন। তিনি বলেন, ‘‘আমাকে জিতিয়েছেন ভবানীপুরের হিন্দু, জৈন, শিখ সমাজ। আমি তাঁদের প্রণাম জানাই। এ জয় হিন্দুত্বের জয়, বাংলার জয়, মোদিজির জয়।’’ ভবানীপুরের লড়াই তাঁর কাছে আবেগের জায়গা। কারণ এটি ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মভূমি। নিজের এই ঐতিহাসিক জয় তিনি উৎসর্গ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের সেই ৩০০ বিজেপি কর্মীর প্রতি, যাঁরা হিন্দুত্বের জন্য নিজেদের প্রাণ দিয়েছেন। জয়ের পরপরই তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং রাজস্থানের বিজেপি বিধায়কদের ধন্যবাদ জানান, যাঁরা তাঁর হয়ে প্রচারে শ্রম দিয়েছেন। কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, শুভেন্দু অধিকারী পেয়েছেন ৭৩,৯১৭টি ভোট, সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পেয়েছেন ৫৮,১১২টি ভোট। জয়ের ব্যবধান ১৫,১০৫।
নন্দীগ্রামের মার্জিন নিয়ে সাফ কথা
ভবানীপুরের পাশাপাশি শুভেন্দু অধিকারী জিতেছেন নিজের গড় নন্দীগ্রাম থেকেও। তবে সেখানে জয়ের ব্যবধান ১০ হাজারের নিচে হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে কিছুটা কৌতূহল তৈরি হয়েছিল। এই বিষয়ে প্রশ্ন উঠতেই শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি জানিয়ে দেন, নন্দীগ্রামে জয়ের মার্জিন কম হওয়ার একমাত্র কারণ সেখানে সংখ্যালঘু ভোট না পাওয়া। তিনি সাফ জানিয়েছেন, মেরুকরণের রাজনীতিতেই নন্দীগ্রামে এই ব্যবধান তৈরি হয়েছে।
১৯৬৭-এর ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি
শুভেন্দু অধিকারীর এই জয়ের সঙ্গে সঙ্গে বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অন্য নজির স্থাপিত হল। ১৯৬৭ সালের বিধানসভা ভোটের কথা মনে পড়ছে অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের। সেবার কংগ্রেস ছেড়ে বাংলা কংগ্রেস গঠনের পরে অজয় মুখোপাধ্যায় নন্দীগ্রামের অদূরে তমলুক আসনের পাশাপাশি আরামবাগ বিধানসভাতেও প্রার্থী হয়ে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী প্রফুল্ল সেনকে পরাজিত করেছিলেন। ঠিক তেমনই, ২০২১-এর পর ২০২৬-এ শুভেন্দু অধিকারীও নন্দীগ্রামের পাশাপাশি মমতার গড় ভবানীপুরে দাঁড়িয়ে তাঁকে পরাজিত করে সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তেরই যেন পুনরাবৃত্তি করলেন। এই জয় তাই শুধুমাত্র একটি নির্বাচনী ফলাফল নয়, বরং বাঙালির রাজনৈতিক মনস্তত্ত্বের এক বিরাট বদলের প্রতিফলন।






