রাজ্যের খবর

আবেগের জয়, রাজনীতির হার! পানিহাটিতে ‘অভয়ার মা’-এর কাছে পরাস্ত কলতান

পানিহাটিতে ‘অভয়ার মা’-এর কাছে পরাস্ত কলতান, তবুও জারি রইল লড়াইয়ের সুর

Truth of Bengal: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে পানিহাটি কেন্দ্রটি ছিল রাজ্য রাজনীতির অন্যতম চর্চিত একটি আসন। একদিকে সিপিএমের পরিচিত মুখ, অভয়া আন্দোলনের সামনের সারির যোদ্ধা কলতান দাশগুপ্ত, অন্যদিকে ন্যায়বিচারের দাবিতে পথে নামা ‘অভয়ার মা’ রত্না দেবনাথ। লড়াইটা ছিল স্পষ্ট, আদর্শ বনাম আবেগ। শেষ পর্যন্ত ব্যালট বাক্সে মানুষের রায় গেল আবেগের পক্ষেই। পানিহাটির লড়াইয়ে জয়ী হলেন অভয়ার মা, আর পরাজয় স্বীকার করে নিতে হল কলতান দাশগুপ্তকে।

নির্বাচনী প্রচারের শুরু থেকেই পানিহাটিতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস ছিল। বেকারত্ব, দুর্নীতি এবং অভয়ার জন্য সুবিচার, এই ইস্যুগুলিকে হাতিয়ার করেই ময়দানে নেমেছিলেন কলতান। কিন্তু নির্বাচনী ফলাফল বলছে, বামেরা নিজেদের হারানো আস্থা পুনরুদ্ধার করতে পুরোপুরি সফল হতে পারল না। অভয়ার মায়ের আবেগের কাছে ফিকে হয়ে গেল কলতানের রাজনৈতিক সমীকরণ।

পরাজয়ের পর কলতানের প্রতিক্রিয়া ছিল বেশ মার্জিত। তিনি স্পষ্টভাবে জানালেন, মানুষের রায়কে তিনি মাথা পেতে নিচ্ছেন। তবে জয় বা পরাজয় তাঁর আন্দোলনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না। কলতান বলেন, “গতকালও আমরা অভয়ার জন্য পথে ছিলাম, আজও আমরা সুবিচার চাই। সেই দাবিতে আমাদের লড়াইয়ের ময়দান আগের মতোই অটুট থাকবে।”

নির্বাচনী ফলের প্রেক্ষিতে বিজেপির শাসনভার গ্রহণ নিয়েও বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন তিনি। কলতানের মতে, বিজেপির জয় বাংলার জন্য উন্নয়নের বার্তা নয়, বরং তা রাজ্যকে আরও গভীর অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেওয়ার ইঙ্গিত। তিনি বলেন, “বিজেপি বহুবার বহু ফাইল খোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এবার সেই ফাইল খুলবে কি না, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছি। যদি বাংলার মানুষের সুবিচারের পথ রুদ্ধ হয়, তবে আমরা আবার পথে নামব।”

কলতানের এই মন্তব্য থেকে পরিষ্কার যে, পানিহাটিতে আসন না পেলেও, তিনি রাজনৈতিক এবং সামাজিক লড়াইয়ের মাঠ ছাড়ছেন না। বিজেপির জয়ের পর রাজ্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে যে আশঙ্কা তিনি প্রকাশ করেছেন, তা আগামী দিনে বামেদের আন্দোলনকে কোন দিকে নিয়ে যায়, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের। জয়ী বা বিজয়ী, পানিহাটির লড়াই শেষে কলতানের এই অদম্য জেদ প্রমাণ করে দিল, ভোটের অংক বদলে গেলেও, আন্দোলনের ইস্যুগুলো কিন্তু আজও জীবন্ত।