দেশ

মাতৃত্বকালীন ছুটিতে বাধা নয়! রাজ্য সরকারকে কড়া বার্তা আদালতের

লখনউ বেঞ্চের বিচারপতি করুণেশ সিং পাওয়ার এই নির্দেশ দিয়েছেন।

Truth of Bengal: এলাহাবাদ হাইকোর্ট এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে জানিয়েছে যে প্রথম মাতৃত্বকালীন ছুটির পর দুই বছর সময় অতিক্রান্ত না হলেও কোনও কর্মীকে দ্বিতীয়বার মাতৃত্বকালীন ছুটি দিতে অস্বীকার করা যাবে না। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী সংসদের তৈরি বিধিবদ্ধ আইন বা স্ট্যাটুটরি রাইটস সব সময় যে কোনও অর্থ দপ্তরের নিয়মাবলীর ঊর্ধ্বে থাকবে। লখনউ বেঞ্চের বিচারপতি করুণেশ সিং পাওয়ার এই নির্দেশ দিয়েছেন।

আদালত এই নির্দেশটি দিয়েছে মনীষা যাদব নামক এক আবেদনকারীর মামলার প্রেক্ষিতে। ২০২৬ সালের ৪ এপ্রিল মনীষার দ্বিতীয় মাতৃত্বকালীন ছুটির আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়েছিল যা তিনি চ্যালেঞ্জ করেন। আবেদনকারীর পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয় যে মাতৃত্বকালীন সুবিধা আইন ১৯৬১ একটি জনকল্যাণমূলক আইন এবং এর গুরুত্ব অন্য সব নিয়মের আগে। অন্যদিকে রাজ্য সরকার ফিন্যান্সিয়াল হ্যান্ডবুকের ১৫৩(১) নিয়মটি তুলে ধরে দাবি করে যে দুটি মাতৃত্বকালীন ছুটির মধ্যে অন্তত দুই বছরের ব্যবধান থাকা বাধ্যতামূলক।

উভয় পক্ষের সওয়াল শুনে হাইকোর্ট পূর্ববর্তী বিভিন্ন রায়ের উল্লেখ করে জানায় যে মাতৃত্বকালীন সুবিধা আইনটি ভারতের সংসদ দ্বারা প্রণীত। ফলে সরকারি নির্দেশিকা বা ফিন্যান্সিয়াল হ্যান্ডবুকের কোনও নিয়ম এই আইনের ওপর খবরদারি করতে পারে না। যদি কোনও ক্ষেত্রে আইনের সঙ্গে সরকারি নিয়মের সংঘাত বা অসামঞ্জস্য তৈরি হয় তবে সংসদীয় আইনের গুরুত্বই সবার আগে বিবেচিত হবে।

মামলার নথিতে দেখা গেছে আবেদনকারী ২০২১ সালে প্রথম সন্তানের জন্ম দেন এবং ২০২২ সালে দ্বিতীয় মাতৃত্বকালীন ছুটির আবেদন করেছিলেন। আদালত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে যে ঠুনকো অজুহাতে সেই সময় আবেদনটি বাতিল করা হয়েছিল যা মোটেই সমর্থনযোগ্য নয়। পুরনো সেই নির্দেশ খারিজ করে দিয়ে আদালত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে যাতে আবেদনকারীকে ২০২৬ সালের ৬ এপ্রিল থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত মাতৃত্বকালীন ছুটি মঞ্জুর করা হয়। এই রায়ের ফলে কর্মরতা মহিলাদের মাতৃত্বকালীন অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে এক বড় জয় এল বলে মনে করছেন আইনজ্ঞরা।

Related Articles