দেশ

মহিলা সংরক্ষণ বিল পাশ না হওয়ায় জাতির উদ্দেশে ভাষণে বিরোধীদের বেনজির তোপ প্রধানমন্ত্রীর

শনিবার রাতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে এসে সরাসরি প্রধান বিরোধী দলগুলোর নাম করে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানালেন প্রধানমন্ত্রী।

Truth Of Bengal: ভারতীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক বেনজির ঘটনার সাক্ষী থাকল দেশ। শনিবার রাতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে এসে সরাসরি প্রধান বিরোধী দলগুলোর নাম করে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানালেন প্রধানমন্ত্রী। সংসদ ভবনে ‘নারীশক্তি বন্দন’ অধিনিয়ম বা মহিলা সংরক্ষণ বিল পাশ করাতে না পারার দায় পুরোপুরি বিরোধীদের ওপর চাপিয়ে তিনি বলেন, “নারীশক্তির বিরোধিতার এই পাপ থেকে বিরোধীরা মুক্তি পাবে না। কংগ্রেস, তৃণমূল, ডিএমকে এবং সমাজবাদী পার্টির মতো দলগুলিকে এই অপরাধের জন্য যোগ্য শাস্তি পেতে হবে।”

উল্লেখ্য, একদিন আগেই প্রয়োজনীয় সংখ্যা গরিষ্ঠতার অভাবে লোকসভায় সংবিধান সংশোধনী এই বিলটি পাশ করাতে ব্যর্থ হয় কেন্দ্রীয় সরকার। বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, এই বিলের আড়ালে আসন পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশনের মাধ্যমে এক বিশেষ রাজনৈতিক ‘ষড়যন্ত্র’ করার চেষ্টা হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে বিলটি আটকে যাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী চরম উষ্মা প্রকাশ করে বলেন, “মেয়েরা সব ভুলতে পারে, কিন্তু অপমান কখনও ভোলে না। নারীশক্তি বিল আটকে বিরোধীরা যে ভুল করল, দেশের মহিলারা তাদের কখনও ক্ষমা করবেন না।” মহিলা সংরক্ষণ বিল পাশ না-হওয়ায় কংগ্রেস হাততালি দিয়েছে বলে অভিযোগ করলেন প্রধানমন্ত্রী।

ভাষণের এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী রীতিমতো আক্রমণাত্মক হয়ে কংগ্রেস, তৃণমূল এবং ডিএমকে-র মতো দলগুলিকে ‘নারীশক্তি বিরোধী’ ও ‘সংস্কার বিরোধী’ বলে দাগিয়ে দেন। তিনি অভিযোগ করেন, এই বিলটি কেবল একটি প্রস্তাব ছিল না, এটি ছিল নারীর আত্মসম্মানের প্রশ্ন এবং দেশের প্রতিটি প্রান্তের সমান শক্তিবৃদ্ধির একটি কৌশল। বিলটি পাশ হতে না দেওয়াকে তিনি ‘গণহত্যা’ এবং ‘ভ্রূণহত্যা’র মতো চরম শব্দের সঙ্গে তুলনা করেন। প্রধানমন্ত্রীর দাবি, কংগ্রেস ঐতিহাসিকভাবেই নারী ক্ষমতায়নের বিরোধী এবং সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তারা নিজেদের ইতিহাস বদলানোর বদলে বিভাজনের রাজনীতিকেই বেছে নিয়েছে।

তবে প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণের ধরণ নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে বসে এবং জাতির উদ্দেশে ভাষণের মঞ্চ থেকে জাতীয় পতাকাকে পিছনে রেখে এভাবে সরাসরি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির নাম ধরে নিশানা করা কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রীর এই রণং দেহি মেজাজ কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত তথা শাসক-বিরোধী টানাপোড়েনকে এক নতুন মাত্রায় পৌঁছে দিল। সবশেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীদের সংরক্ষণ নিয়ে সরকারের প্রয়াস থামবে না।

Related Articles