রাজ্যের খবর

“মাফিয়াদের হাড়গোড় দিয়ে এক্সপ্রেসওয়ে বানিয়েছি!” মাথাভাঙ্গায় দাঁড়িয়ে তৃণমূলকে হুঁশিয়ারি যোগীর

রাজনীতির মিশেলে যোগীর এদিনের বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

Truth of Bengal: কোচবিহারের মাথাভাঙ্গায় নির্বাচনী জনসভা থেকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। আসন্ন ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার দিনটিকে সামনে রেখে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি। হিন্দুত্ববাদের আবেগ আর ‘বুলডোজার’ রাজনীতির মিশেলে যোগীর এদিনের বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

এদিন মাথাভাঙ্গায় বিজেপি প্রার্থীদের সমর্থনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে যোগী আদিত্যনাথ বলেন, “তৃণমূলের লোকজন যদি সাধারণ মানুষকে হুমকি দেওয়া বন্ধ না করে, তবে মনে রাখবেন ৪ মে-র পর উল্টো গণনা শুরু হবে। তখন তৃণমূলের হয়ে কথা বলার বা জল দেওয়ার লোক খুঁজে পাওয়া যাবে না।” রাজ্যে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের বেহাল দশা তুলে ধরে তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূলের ১৫ বছরের শাসনে রাজ্যে অন্তত সাত হাজার কারখানা বন্ধ হয়েছে এবং বেকার হয়েছেন প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষ।

যোগীর দাবি, কেন্দ্রীয় সরকারের পাঠানো টাকা সাধারণ মানুষের কল্যাণে খরচ না করে তৃণমূল সরকার তা ‘গুন্ডা ও অনুপ্রবেশকারীদের’ হাতে তুলে দিচ্ছে। উত্তরপ্রদেশের আইন-শৃঙ্খলার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “ইউপি-তে আমরা মাফিয়াদের ওপর বুলডোজার চালিয়ে তাদের হাড়গোড় দিয়ে এক্সপ্রেসওয়ে বানিয়ে দিয়েছি। বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় এলে এখানেও দুষ্কৃতী দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে বুলডোজার চলবে।”

এদিন রাম মন্দির এবং হিন্দুত্ব ইস্যুতেও সরব হন যোগী আদিত্যনাথ। তিনি অভিযোগ করেন, বাংলায় রামের নাম নেওয়া অপরাধের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। দুর্গাপুজো বা বিসর্জনের জন্য অনুমতি নিতে হয়। তাঁর দাবি, কংগ্রেস, তৃণমূল বা সমাজবাদী পার্টির মতো দলগুলো অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণ আটকাতে চেয়েছিল, কিন্তু সফল হয়নি। কেন্দ্রীয় সরকারের মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে বিরোধীদের ভূমিকারও কড়া সমালোচনা করেন তিনি।

বক্তব্যের শেষে তিনি আরও বলেন যে তৃণমূল কেবল ‘তুষ্টিকরণের রাজনীতি’তে বিশ্বাসী। তাঁর এই চরমপন্থী মন্তব্যের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। বিরোধীদের দাবি, ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে ভোট পাওয়ার চেষ্টা করছেন যোগী। তবে ভোটের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে তাঁর এই আক্রমণাত্মক মেজাজ কোচবিহারের জনসভায় বিজেপি কর্মীদের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ জুগিয়েছে।

Related Articles