দেশ

একদিনেই উধাও ৮ লক্ষ কোটি টাকা! যুদ্ধের আশঙ্কায় কাঁপছে দালাল স্ট্রিট

শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়া মানেই মধ্যপ্রাচ্যে ফের যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হওয়া, যার প্রভাব সরাসরি জ্বালানি বাজারে পড়ে

Truth of Bengal: সংঘর্ষবিরতির আশায় কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছিল শেয়ার বাজার। কিন্তু ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি বৈঠক ব্যর্থ হতেই ফের বড় ধস নেমে এল ভারতের শেয়ার বাজারে। শনিবার ইসলামাবাদে দুই দেশের মধ্যে যে বৈঠক হয়েছিল, তা ফলপ্রসূ হয়নি। এরপরই উভয় দেশ একে অপরের অর্থনীতি ও তেল রফতানির উপর আঘাত হানার হুঁশিয়ারি দেয়। এই উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়ে ভারতের শেয়ার বাজারে। সোমবার বাজার খুলতেই ধস নামে, সেনসেক্স এক ধাক্কায় প্রায় ১৬০০ পয়েন্ট পড়ে যায়। নিফটিতেও বড় পতন দেখা যায়। একদিনেই বিনিয়োগকারীদের প্রায় ৮ লক্ষ কোটি টাকার সম্পদ উধাও হয়ে যায় বলে অনুমান। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি একেবারেই অপ্রত্যাশিত নয়। কারণ শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়া মানেই মধ্যপ্রাচ্যে ফের যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হওয়া, যার প্রভাব সরাসরি জ্বালানি বাজারে পড়ে।

বিশ্ববাজারে তেলের দাম ইতিমধ্যেই ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। ভারত যেহেতু বড় অংশের জ্বালানি আমদানি করে, তাই এই মূল্যবৃদ্ধির চাপ সরাসরি দেশের অর্থনীতিতে পড়ছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে। তবে দিনের শেষের দিকে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায় বাজার। সেনসেক্স প্রায় ৮০০ পয়েন্ট পর্যন্ত পুনরুদ্ধার করে, যদিও সামগ্রিকভাবে ক্ষতির জায়গায়ই রয়ে যায় বাজার। এই পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, আতঙ্কিত হয়ে শেয়ার বিক্রি না করে ধৈর্য রাখা উচিত। পাশাপাশি কোন সংস্থার শেয়ারে তুলনামূলক কম ঝুঁকি রয়েছে, সেদিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। নিয়মিত ও ধাপে ধাপে বিনিয়োগ করাকেও গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, অতীতেও যুদ্ধ ও বৈশ্বিক সংকটের পর ভারতের বাজার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তাই বর্তমান অনিশ্চয়তার মধ্যেও দীর্ঘমেয়াদে বাজার পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা থেকে যাচ্ছে বলে আশাবাদী তাঁরা।

 

Related Articles