দেশ

গ্রেফতারি থেকে খানিক স্বস্তি, পবন খেরার আগাম জামিন মঞ্জুর তেলঙ্গানা হাইকোর্টের

অসমে ভোটের ঠিক আগে গুয়াহাটিতে সাংবাদিক সম্মেলনে কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈয়ের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পবন খেরা।

Truth Of Bengal: কংগ্রেস নেতা পবন খেরাকে এক সপ্তাহের জন্য গ্রেফতারি থেকে রক্ষাকবচ দিল তেলঙ্গানা হাইকোর্ট। শুক্রবার তেলঙ্গানা হাইকোর্ট এক সপ্তাহের জন্য তাঁর ‘ট্রানজিট’ আগাম জামিন মঞ্জুর করেছে। এই এক সপ্তাহের মধ্যে খেরাকে নির্দিষ্ট আদালতের দ্বারস্থ হতে হবে বলে তাঁর অন্যতম আইনজীবী পোন্নম অশোক গৌড় জানিয়েছেন।

অসমে ভোটের ঠিক আগে গুয়াহাটিতে সাংবাদিক সম্মেলনে কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈয়ের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পবন খেরা। সেখানেই হিমন্ত বিশ্বশর্মার স্ত্রী রিনিকির বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তোলেন তিনি। পবনের দাবি ছিল, রিনিকির দুবাই ও আমেরিকায় বিপুল বিনিয়োগ রয়েছে এবং তাঁর নামে তিনটি পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়েছিল। পাশাপাশি তিনি কর ফাঁকির অভিযোগও করেন। এর পরদিনই পবনের বিরুদ্ধে প্রতারণা, ষড়যন্ত্র এবং মানহানির অভিযোগে এফআইআর দায়ের করেন রিনিকি ভুঁইয়া শর্মা। অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর দিল্লির নিজামুদ্দিনে পবন খেরার বাড়িতে দিল্লি ও অসম পুলিশের যৌথ দল পৌঁছে যায়। যদিও সেই সময় পবন বাড়িতে ছিলেন না। তদন্তকারীদের দাবি, তল্লাশিতে কিছু ‘আপত্তিকর’ নথি উদ্ধার হয়েছে। সূত্রের খবর, পুলিশি হানার আশঙ্কা আঁচ করেই পবন হায়দরাবাদে চলে যান।

হায়দ্রাবাদে পবন খেরার একটি বাড়ি রয়েছে। গ্রেপ্তারির আশঙ্কায় তিনি তেলেঙ্গানা হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করেন। বৃহস্পতিবার সেই মামলার শুনানিতে পবনের হয়ে সওয়াল করেন কংগ্রেসের বর্ষীয়ান আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি। তিনি দাবি করেন, মানহানির অভিযোগে দায়ের হওয়া এফআইআরে যে ধারাগুলি যোগ করা হয়েছে, তা অত্যন্ত অস্বাভাবিক এবং এটি আইনের অপব্যবহারের ক্লাসিক উদাহরণ। তাঁর বক্তব্য, গোটা বিষয়টি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং প্রতিহিংসার গন্ধ রয়েছে।

শুনানিতে সিঙ্ঘভি আরও অভিযোগ করেন, বিজেপি ভোটের ময়দানে রাজনৈতিক লড়াই না করে বিরোধীদের বিরুদ্ধে মামলা করে চাপ সৃষ্টি করছে। তাঁর দাবি, রিনিকি অভিযোগ দায়ের করলেও এর নেপথ্যে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার ভূমিকা রয়েছে। সব পক্ষের বক্তব্য শুনে বিচারপতি কে সুজনা পবন খেরাকে এক সপ্তাহের আগাম জামিন মঞ্জুর করেন এবং নির্দেশ দেন, এই সময়ের মধ্যে তিনি সংশ্লিষ্ট আদালতে প্রয়োজনীয় আবেদন করবেন। অসমের ভোটের ঠিক আগে এমন মামলা ও পাল্টা অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।