একই আসনে দুই ‘শুভেন্দু অধিকারী’! নন্দীগ্রামে ভোটের আগে বিড়ম্বনায় বিজেপি
এবার লড়াইয়ের ময়দানে এক নয়, জোড়া ‘শুভেন্দু অধিকারী’র উপস্থিতিতে সরগরম পূর্ব মেদিনীপুর।
Truth of Bengal: একুশের বিধানসভা নির্বাচনের সেই হাইভোল্টেজ লড়াইয়ের স্মৃতি উসকে ২০২৬-এও বঙ্গ রাজনীতির এপিসেন্টার হয়ে উঠল নন্দীগ্রাম। তবে এবার লড়াইয়ের ময়দানে এক নয়, জোড়া ‘শুভেন্দু অধিকারী’র উপস্থিতিতে সরগরম পূর্ব মেদিনীপুর। অবাক লাগলেও এটাই বাস্তব। জমি রক্ষা আন্দোলনের এই পুণ্যভূমিতে এবার বিজেপির হেভিওয়েট প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর নামেই মনোনয়ন জমা দিয়েছেন এক নির্দল প্রার্থী। ঘটনাচক্রে, তাঁর নামও শুভেন্দু অধিকারী!
বিজেপির প্রার্থী তথা বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী কাঁথির শান্তিকুঞ্জের মেজো ছেলে হিসেবে পরিচিত হলেও, দ্বিতীয় শুভেন্দু অধিকারীর ঠিকানা কলকাতার গড়ফা থানার কালীতলা লেন। জেলা রাজনীতিতে সম্পূর্ণ অপরিচিত এই দ্বিতীয় ‘শুভেন্দু’র আগমনকে ঘিরেই এখন তুঙ্গে রাজনৈতিক তর্জা। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিদায়ী বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারীর ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসাতে এবং সাধারণ ভোটারদের বিভ্রান্ত করতেই এই ‘ডামি’ প্রার্থীর কৌশল নিয়েছে শাসক দল। যদিও তৃণমূল এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে।
নন্দীগ্রাম পুনরুদ্ধারে এবার মাস্টারস্ট্রোক দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। শুভেন্দু অধিকারীর একসময়ের ছায়াসঙ্গী তথা অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ নেতা পবিত্র করকে দলে ফিরিয়েই এই কেন্দ্রের টিকিট দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভূমিপুত্র পবিত্র করের সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর দ্বৈরথ যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই এই নাম-বিভ্রাটের রাজনীতি নতুন মাত্রা যোগ করল। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, “শুভেন্দু অধিকারীকে তৃণমূল কতটা ভয় পেয়েছে, তা এই ডামি প্রার্থী দাঁড় করানো দেখেই বোঝা যাচ্ছে। কিন্তু নন্দীগ্রামের মানুষের কাছে দাদা (শুভেন্দু)-র যে জনপ্রিয়তা, তাতে এসব সস্তা রাজনীতি কাজে আসবে না।”
পাল্টা জবাবে তমলুক জেলা তৃণমূল সভাপতি সুজিত কুমার রায় বলেন, “ভারতবর্ষের সংবিধানে যে কেউ যে কোনও জায়গায় প্রার্থী হতে পারেন। এর সঙ্গে তৃণমূলের কোনও সম্পর্ক নেই। আমাদের প্রার্থী ভূমিপুত্র পবিত্র কর। নন্দীগ্রামে এবার ভূমিপুত্রই জয়ী হবে, এটাই শেষ কথা।” সব মিলিয়ে ২০২৬-এর নির্বাচনেও নন্দীগ্রামের লড়াই যে কাঁটায় কাঁটায় হতে চলেছে, জোড়া শুভেন্দুর লড়াই তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।






