রাজ্যের খবর

মালদহকাণ্ডে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ: জেলাশাসক ও এসপি-কে কড়া ভর্ৎসনা নির্বাচন কমিশনের

একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে তাদের প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে

Truth Of Bengal: কালিয়াগঞ্জের পর মালদহের কালিয়াচকে ভোটার তালিকা নিয়ে যে নজিরবিহীন অশান্তি ও তাণ্ডব সৃষ্টি হয়েছে, তার তদন্তভার কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই-এর হাতে তুলে দিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার এই ঘটনা নিয়ে আয়োজিত এক জরুরিভিত্তিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার মালদহের জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপারের ভূমিকা নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, কর্তব্যে কোনো প্রকার গাফিলতি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করার মতো কড়া পদক্ষেপ নিতেও দ্বিধা করবে না কমিশন।

বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট অনুযায়ী আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনের এই সন্ধিক্ষণে ভোটার তালিকায় নাম বাদ যাওয়াকে কেন্দ্র করে পরপর দুটি জেলায় যে অশান্তি দানা বেঁধেছে, তাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে দিল্লি। বৃহস্পতিবার দুপুরে ডাকা এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল, রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং এডিজি আইনশৃঙ্খলাসহ সমস্ত জেলার জেলাশাসক ও পুলিশ সুপাররা। মালদহের ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে সিবিআই-কে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে তাদের প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।

বৈঠকে জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার সরাসরি প্রশ্ন তোলেন যে, ঘটনা ঘটার পর কেন দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন যে, আগামী দিনে বাংলার অন্য কোনো জেলা বা অঞ্চলে এই ধরনের ঘটনা ঘটলে প্রশাসনকে মুহূর্তের মধ্যে সক্রিয় হতে হবে। পরিস্থিতির অবনতি হলে বা নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্তাদের সংবিধানের ৩১১ নম্বর ধারার সম্মুখীন হতে হবে। কমিশন সূত্রে খবর, কর্তব্যে গাফিলতি বা পদক্ষেপ নিতে অহেতুক দেরি করলে দায়বদ্ধ আধিকারিকদের ‘কম্পালসারি ওয়েটিং’-এ পাঠানো এমনকি সরাসরি বরখাস্ত করার মতো নজিরবিহীন ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে মালদহের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এখনও পর্যন্ত কী কী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তার বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। কমিশনের এই কঠোর অবস্থান রাজ্যজুড়ে প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে কোনো প্রকার আপস করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন জ্ঞানেশ কুমার। এখন সিবিআই তদন্তের রিপোর্টে কী উঠে আসে এবং কমিশন পরবর্তীকালে কী ব্যবস্থা নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল।

Related Articles