এবার বাড়িতে রাখতে হবে ৪ রঙের ডাস্টবিন, না মানলে জরিমানা
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রক কর্তৃক ঘোষিত 'কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা (সংশোধনী) বিধি ২০২৬' অনুযায়ী, বর্জ্য পৃথকীকরণের জন্য নির্দিষ্ট রঙ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।
Truth Of Bengal: কেন্দ্রীয় সরকারের সংশোধিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধি অনুযায়ী, ১ এপ্রিল থেকে দেশজুড়ে আবর্জনা ফেলার নিয়মে বড়সড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন থেকে প্রতিটি পরিবারকে তাদের দৈনন্দিন বর্জ্য দুটি বিনের পরিবর্তে চারটি আলাদা বিভাগে ভাগ করে নির্দিষ্ট রঙের ডাস্টবিনে ফেলতে হবে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রক কর্তৃক ঘোষিত ‘কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা (সংশোধনী) বিধি ২০২৬’ অনুযায়ী, বর্জ্য পৃথকীকরণের জন্য নির্দিষ্ট রঙ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। পচনশীল বা ভেজা বর্জ্য (যেমন আনাজের খোসা) ফেলতে হবে সবুজ বিন-এ, শুকনো বর্জ্য (যেমন প্লাস্টিক বা কাগজ) যাবে নীল বিন-এ, স্যানিটারি বর্জ্য (যেমন ডায়াপার বা প্যাড) ফেলতে হবে লাল বিন-এ এবং বিপজ্জনক বর্জ্য (যেমন ওষুধ, ই-বর্জ্য বা বাল্ব) জমা করতে হবে কালো বিন-এ।
এই নতুন নিয়মাবলি দেশের সমস্ত শহুরে ও গ্রামীণ স্থানীয় প্রশাসনসহ শিল্পাঞ্চল, এসইজেড, রেলওয়ে চত্বর, বিমানবন্দর, বন্দর, প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থানগুলোর জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কঠোর জরিমানার বিধানও রাখা হয়েছে। নতুন নির্দেশিকায় নাগরিকদের বলা হয়েছে যে, ব্যবহৃত স্যানিটারি বর্জ্যগুলি সংশ্লিষ্ট প্রস্তুতকারক সংস্থার দেওয়া পাউচে বা প্যাকেটে সুরক্ষিতভাবে মুড়িয়ে নির্দিষ্ট বিনে ফেলতে হবে। এছাড়া নির্মাণ বা ভাঙা কাজের বর্জ্য উৎপন্ন হওয়ামাত্রই তা আলাদাভাবে সংরক্ষণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বড় আকারের বর্জ্য উৎপাদনকারী সংস্থা, যেমন আবাসন কমপ্লেক্স বা ৫,০০০ বর্গমিটারের বেশি আয়তনের প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে পচনশীল বর্জ্য নিজস্ব চত্বরেই প্রক্রিয়াকরণ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই বিধিতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, জৈব-চিকিৎসা বর্জ্যকে কোনোভাবেই সাধারণ কঠিন বর্জ্যের সঙ্গে মেশানো যাবে না। ২০২৬ সালের এই নতুন নিয়মাবলি ‘দূষণকারী দেবে’ (Polluter Pays) নীতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যার ফলে বর্জ্য পৃথক না করা বা ভুল তথ্য দেওয়ার মতো অপরাধের জন্য কর্তৃপক্ষ পরিবেশগত ক্ষতিপূরণ আদায় করতে পারবে। দিল্লি পৌর কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই নাগরিকদের এই পাঁচটি প্রাথমিক ধাপ অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে: বর্জ্য পৃথকীকরণ, নির্দিষ্ট সময়ে বর্জ্য ত্যাগ, যত্রতত্র আবর্জনা না ফেলা, সচেতনতা বাড়ানো এবং নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনা রিপোর্ট করা।






