রাহুলের শেষকৃত্যে চরম বিশৃঙ্খলা! কেওড়াতলায় ঢুকতে বাধা পেয়ে ক্ষুব্ধ বন্ধুরা
শ্মশানের ভেতরে ঢোকার অনুমতি পেলেও অনেক বন্ধুকে মূল চুল্লির কাছে যেতে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
Truth of Bengal: অভিনেতা রাহুলের শেষযাত্রাকে কেন্দ্র করে সোমবার বিকেলে কেওড়াতলা মহাশ্মশান চত্বরে তীব্র উত্তেজনা ও অশান্তি ছড়িয়ে পড়ে। প্রিয় বন্ধুর নিথর দেহ নিয়ে শ্মশানে পৌঁছানোর পর থেকেই নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন অভিনেতার ছোটবেলার বন্ধুরা। তাঁদের অভিযোগ, শ্মশানের ভেতরে প্রবেশের ক্ষেত্রে নিরাপত্তারক্ষীরা চরম বৈষম্য করছেন। শুধুমাত্র পরিচিত মুখ বা সেলিব্রিটিদের ভেতরে যেতে দেওয়া হচ্ছে, আর যাঁরা বছরের পর বছর রাহুলের সঙ্গে কাটিয়েছেন, সেই সাধারণ বন্ধুদের গেটেই আটকে দেওয়া হচ্ছে। ক্ষুব্ধ এক বন্ধু জানান যে, ছোটবেলা থেকে একসঙ্গে বড় হলেও আজ তাঁদের শেষ বিদায় জানানোর অধিকারটুকু কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।
শ্মশানের ভেতরে ঢোকার অনুমতি পেলেও অনেক বন্ধুকে মূল চুল্লির কাছে যেতে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এই নিয়ে দীর্ঘক্ষণ মহাশ্মশান চত্বরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তাঁরা। উল্লেখ্য, অন্তেষ্টির সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, অঙ্কুশ হাজরা, রুকমা রায়ের মতো টলিপাড়ার প্রথম সারির তারকারা। বন্ধুদের দাবি, শোকের মুহূর্তে বন্ধুত্বের চেয়ে গ্ল্যামারকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যা অত্যন্ত অপমানজনক।
এর আগে বিকেলের দিকে বিজয়গড়ের বাড়ি থেকে যখন রাহুলের মরদেহ বের করা হয়, তখন রাস্তার দুপাশে উপচে পড়া জনতা চোখের জলে প্রিয় অভিনেতাকে বিদায় জানান। শববাহী গাড়ি ঘিরে অনুরাগী ও সহ-অভিনেতাদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, দর্শনা বণিক, সাহেব চট্টোপাধ্যায় এবং রিমঝিম মৈত্রের মতো বিশিষ্টরা সেখানে উপস্থিত থেকে রাহুলকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। উপস্থিত ছিলেন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সায়নী ঘোষ ও দীপ্সিতা ধরও।
রাহুলের বাড়িতে এদিন শোকাতুর পরিবেশে উপস্থিত হয়েছিলেন আবির চট্টোপাধ্যায় ও বর্ষীয়ান অভিনেতা ফাল্গুনী চট্টোপাধ্যায়ের মতো ব্যক্তিত্বরা। বাড়িতে শোকস্তব্ধ অবস্থায় রয়েছেন অভিনেতার বৃদ্ধ মা, স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার ও পুত্র সহজ। পরিবারের পক্ষ থেকে গতকালই জানানো হয়েছিল যে, কোনও আড়ম্বর ছাড়াই সরাসরি বাড়ি থেকে শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হবে দেহ এবং মাঝপথে কোথাও তা রাখা হবে না। তবে শেষ বিদায়ে শ্মশানের এই অব্যবস্থা ও বন্ধুদের ক্ষোভ পুরো প্রক্রিয়াটিকে বিতর্কের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।




