দেশ

অসমে দলবদল, বিজেপি ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ মন্ত্রীর

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে হাফলং কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে মন্ত্রিসভায় জায়গা করে নিয়েছিলেন নন্দিতা।

Truth Of Bengal: ভোটের মুখে অসমে ক্রমেই জোরদার হচ্ছে রাজনৈতিক টানাপোড়েন। একের পর এক দলবদলের ঘটনায় সরগরম রাজ্য রাজনীতি। এই আবহেই বড়সড় ধাক্কা খেল বিজেপি। দলীয় টিকিট না পেয়ে কংগ্রেসে যোগ দিলেন রাজ্যের মন্ত্রী নন্দিতা গারলোসা। রবিবার গভীর রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে কংগ্রেসে যোগ দেন তিনি। সোমবারই তাঁকে হাফলং (এসটি) কেন্দ্রের প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নেয় হাত শিবির। আগে এই কেন্দ্রে কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে ঘোষিত নির্মল লাংথাসা বৃহত্তর স্বার্থে নিজের প্রার্থীপদ ছেড়ে দেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে হাফলং কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে মন্ত্রিসভায় জায়গা করে নিয়েছিলেন নন্দিতা। বিদ্যুৎ, খনিজ, ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ দফতরের দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। তবে এবারের নির্বাচনে তাঁকে টিকিট দেয়নি বিজেপি। সেই জায়গায় প্রার্থী করা হয়েছে রূপালি লাংথাসাকে। এরপর থেকেই ক্ষোভ বাড়ছিল নন্দিতার। পরিস্থিতি সামাল দিতে রবিবার তাঁর সঙ্গে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তবে সেই বৈঠক ফলপ্রসূ হয়নি বলেই রাজনৈতিক মহলের মত। পরে গৌহাটিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রথমে নন্দিতার দলত্যাগের খবর উড়িয়ে দিলেও পরে তা স্বীকার করেন মুখ্যমন্ত্রী।

এদিকে, ভোটের আগে বিজেপির অন্দরে টিকিট বণ্টন ঘিরে অসন্তোষ ক্রমশ বাড়ছে। একাধিক বর্তমান বিধায়ককে প্রার্থী না করায় অনেকেই নির্দল হিসেবে লড়াই করতে পারেন বলে জোর জল্পনা। বরাক উপত্যকাতেও তিনজন বিধায়ককে টিকিট না দেওয়ায় ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাঁদের মধ্যে প্রাক্তন বিধায়ক অমরচাঁদ জৈন ইতিমধ্যেই কংগ্রেসে যোগ দিয়ে কাটিগড়া কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হয়েছেন। অন্যদিকে, কংগ্রেসও ভোটের আগে নিজেদের জমি শক্ত করতে একাধিক কৌশল নিচ্ছে। সম্প্রতি আঞ্চলিক দল রাইজোর দল-এর সঙ্গে জোট চূড়ান্ত করেছে তারা। মুসলিম ভোটের পাশাপাশি অহমিয়া ভূমিপুত্রদের ভোট টানাই লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে। আগামী ৯ এপ্রিল এক দফায় অসমের ১২৬টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ সময়ের ঠিক আগে নন্দিতার এই দলবদল কংগ্রেসের জন্য বড়সড় রাজনৈতিক ‘মাস্টারস্ট্রোক’ হতে পারে বলে মত বিশ্লেষকদের। বিজেপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং সম্ভাব্য নির্দল প্রার্থীদের প্রভাব—সব মিলিয়ে ভোটের আগে অসমের রাজনীতি ক্রমশ আরও জটিল ও নাটকীয় হয়ে উঠছে।