মার্চের শেষেও কুয়াশার চাদরে দিল্লি, আবহাওয়ার বিরল চরিত্রে অবাক বিশেষজ্ঞরা
শনিবার রাজধানীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২১.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেকটাই কম।
Truth Of Bengal: শীত বিদায় নিয়েছে অনেক আগেই, ক্যালেন্ডারের পাতায় এখন মার্চের শেষ ভাগ। অথচ দিল্লির বর্তমান আবহাওয়া দেখে বোঝার উপায় নেই এটি বসন্ত না কি ডিসেম্বরের হাড়কাঁপানো শীতের মরসুম। শনিবার সকালে ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ে গোটা রাজধানী শহর, যা দেখে হতবাক আবহবিদেরাও। মৌসম ভবন জানিয়েছে, গত কয়েক দিনের বৃষ্টি ও মেঘলা আকাশের জেরে তাপমাত্রার পারদ একধাক্কায় অনেকটা নেমে গিয়েছে। শনিবার রাজধানীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২১.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেকটাই কম। চলতি মাসে দিল্লিতে ইতিমধ্য়েই ১৬.২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া দফতর সতর্ক করেছে যে, সোমবার থেকে পুনরায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়ার এই খামখেয়ালিপনার মূলে রয়েছে শক্তিশালী পশ্চিমি ঝঞ্ঝা। সাধারণত ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে ভূমধ্যসাগর থেকে উৎপন্ন এই ঝঞ্ঝার প্রভাব দেখা যায়, যার ফলে উত্তর ভারতে তুষারপাত ও শৈত্যপ্রবাহ ঘটে। কিন্তু এবার মার্চের শেষেও এর দাপট অব্যাহত। আফগানিস্তান ও পাকিস্তান হয়ে ভারত পর্যন্ত প্রায় ১০০০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি বিরল নিম্নচাপ বলয় তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেই আবহাওয়ার এই অস্বাভাবিক আচরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিপুল পরিমাণ জলীয় বাষ্প ভূমধ্যসাগর, কাস্পিয়ান সাগর এবং পারস্য উপসাগর থেকে আরব সাগর হয়ে ভারতের বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে বিশালাকার মেঘবলয় সৃষ্টি করেছে, যার প্রভাবে এই অকাল বৃষ্টি ও ঝড় চলছে।
এই দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি এখনই কাটার সম্ভাবনা কম। মৌসম ভবনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, পশ্চিমি ঝঞ্ঝার প্রভাবে আগামী কয়েক দিন উত্তর ভারতের বিভিন্ন অংশে ৪০-৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া এবং শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল থেকে আসা অতিরিক্ত জলীয় বাষ্পই এই শক্তিশালী বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরির মূল কারণ। মার্চ মাসে কুয়াশা আর বৃষ্টির এই যুগলবন্দী দিল্লির জনজীবনে যেমন বিস্ময় তৈরি করেছে, তেমনই পরিবেশবিদদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। প্রকৃতির এই খামখেয়ালি রূপ আগামী দিনে আরও বড় কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত কি না, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।






