নাবালিকাকে নিগ্রহের চেষ্টা ও মারধর? এপস্টাইন নথিতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ভয়াবহ দাবি এক মহিলার
শুধুমাত্র মহিলার দেওয়া বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে এবং তদন্তকারীরা এগুলোর সত্যতা যাচাই করেননি।
Truth of Bengal: আমেরিকার বিচার বিভাগ বৃহস্পতিবার কলঙ্কিত অর্থলগ্নিকারী জেফরি এপস্টাইন সংক্রান্ত নথিপত্রের একটি নতুন সেট প্রকাশ করেছে। এই নথিগুলোতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এক মহিলার করা বেশ কিছু অসমর্থিত অভিযোগের বিবরণ রয়েছে। এফবিআই-এর তিনটি সাক্ষাৎকার সারসংক্ষেপ সম্বলিত এই নথিগুলো আগের পর্যালোচনার সময় ভুলবশত প্রকাশ করা হয়নি বলে সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে। তবে কর্মকর্তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, এই নথিগুলোতে শুধুমাত্র মহিলার দেওয়া বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে এবং তদন্তকারীরা এগুলোর সত্যতা যাচাই করেননি।
এফবিআই-এর সাক্ষাৎকারের সারাংশ অনুযায়ী, ওই মহিলা তদন্তকারীদের জানিয়েছেন যে তাঁর বয়স যখন ১৩ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে ছিল, তখন এপস্টাইন তাঁকে নিউইয়র্ক বা নিউজার্সির একটি বড় ভবনে নিয়ে গিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। সাক্ষীর বয়ান অনুযায়ী, ট্রাম্প সেখানে উপস্থিত অন্যদের ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন এবং এরপর একটি যৌন সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করেন। মহিলা দাবি করেছেন যে তিনি বাধা দিয়েছিলেন এবং এক পর্যায়ে ট্রাম্পকে কামড়ে দিয়েছিলেন, যার ফলে ট্রাম্প তাঁকে আঘাত করেন। মহিলার স্মৃতিচারণ অনুযায়ী, ট্রাম্প তখন অন্যদের ঘরে ডেকে বলেছিলেন এই মেয়েটিকে এখান থেকে বের করে দিতে। ওই সাক্ষী ট্রাম্পের সঙ্গে আরও দুবার সাক্ষাতের কথা বললেও সেই বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
সাক্ষাৎকারে ওই মহিলা আরও দাবি করেছেন যে, তিনি জেফরি এপস্টাইন এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে ব্ল্যাকমেল বা ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় সংক্রান্ত কথোপকথন শুনতে পেয়েছিলেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, এপস্টাইন প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ব্ল্যাকমেল করার বিষয়ে কথা বলতেন এবং ট্রাম্প ক্যাসিনোর মাধ্যমে অর্থ পাচারের বিষয়ে মন্তব্য করেছিলেন। এছাড়াও তিনি দুই ব্যক্তির মধ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন লক্ষ্য করেছিলেন বলে জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, তাঁরা দুজনে অল্পবয়সী মেয়েদের ক্ষেত্রে অত্যন্ত আপত্তিজনক শব্দ ব্যবহার করতেন। তবে তদন্তকারীরা এই অভিযোগগুলোর কোনো স্বাধীন তদন্ত বা সত্যতা নিশ্চিত করেননি।
মহিলার সাক্ষ্য অনুযায়ী, এপস্টাইন যৌন সম্পর্কের সময় তাঁর পোলারয়েড ছবি তুলে রাখতেন এবং পরে সেই ছবি দিয়ে তাঁর পরিবারকে ব্ল্যাকমেল করা হতো। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, এপস্টাইন ও তাঁর এক সহযোগী ওই ছবিগুলো প্রকাশ করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে টাকা দাবি করতেন। এর ফলে মহিলার মা রিয়েল এস্টেট ব্যবসা থেকে অর্থ তছরুপ করতে বাধ্য হন এবং পরবর্তীতে সেই অপরাধের জন্য জেলেও যান। এছাড়া ওই সাক্ষী এপস্টাইনের সঙ্গে বহুবার যৌন সংসর্গ এবং সেখানে মাদক ও অ্যালকোহলের উপস্থিতির কথা জানিয়েছেন। তিনি আরও দাবি করেছেন যে, সেখানে আরও অনেক ধনী ব্যক্তি উপস্থিত থাকতেন।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা এই সমস্ত অভিযোগ জোরালোভাবে অস্বীকার করেছেন। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এই দাবিগুলোকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর মতে, একজন অপরাধমূলক ইতিহাস থাকা মহিলার কথার কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ নেই। লেভিট আরও যুক্তি দিয়েছেন যে, জো বাইডেনের বিচার বিভাগ চার বছর ধরে এই নথিগুলো কাছে রেখেও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি, কারণ তারা জানত যে ট্রাম্প কোনো অন্যায় করেননি। বিচার বিভাগ জোর দিয়ে জানিয়েছে যে, ২০১৯ সালের এই রিপোর্টটি শুধুমাত্র একজন সাক্ষীর বয়ান এবং এটি কোনো চূড়ান্ত তদন্ত রিপোর্ট নয়।






