কলকাতা

কাগজের ব্যবসার আড়ালে কোটি টাকার বেটিং! পুলিশের জালে মাস্টারমাইন্ড

গোপন সূত্রে খবর পেয়ে এই চক্রের জাল গুটিয়ে আনল কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের অ্যান্টি রাউডি সেকশন (ARS)।

Truth of Bengal: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের হাই-ভোল্টেজ ম্যাচ ঘিরে যখন উত্তেজনায় কাঁপছে ক্রিকেট বিশ্ব, ঠিক তখনই পর্দার আড়ালে সক্রিয় হয়ে উঠেছিল এক বিশাল জুয়া চক্র। সূর্যকুমার যাদব ক’টি চার মারবেন কিংবা হার্দিক পাণ্ডিয়া চার ওভারে কত রান দেবেন— মাঠের প্রতিটি বল আর প্রতিটি মুহূর্তকে ঘিরে চলছিল লক্ষ লক্ষ টাকার বেটিং। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে এই চক্রের জাল গুটিয়ে আনল কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের অ্যান্টি রাউডি সেকশন (ARS)।

গত ২২ জুন ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ চলাকালীন মধ্য কলকাতার ইন্ডিয়া এক্সচেঞ্জ প্লেস এলাকায় হানা দেয় পুলিশ। সেখান থেকেই গ্রেফতার করা হয় এই চক্রের মূল পান্ডা প্রতীক পিঞ্চাকে। রাজস্থানের বিকানেরের বাসিন্দা প্রতীক গত চার বছর ধরে হাওড়ায় বসবাস করছিল। নিজেকে লোকচক্ষুর সামনে ‘কাগজের ব্যবসায়ী’ হিসেবে পরিচয় দিলেও, আদতে সে ছিল ডিজিটাল বেটিং সিন্ডিকেটের মাস্টারমাইন্ড।

তদন্তে জানা গিয়েছে, একটি অফিস খুলে একাধিক মোবাইল ফোন এবং অত্যাধুনিক ডিভাইসের মাধ্যমে বিভিন্ন ডিজিটাল বেটিং অ্যাপ ব্যবহার করে এই কারবার চালাচ্ছিল প্রতীক। তল্লাশিতে তার অফিস থেকে নগদ ৪০ হাজার টাকা উদ্ধার হয়েছে। তবে সবথেকে বেশি রহস্য দানা বেঁধেছে উদ্ধার হওয়া একটি চাবি ঘিরে। শহরের এক নামী হোটেলের ঘরের ওই চাবিটি কেন প্রতীকের কাছে ছিল এবং সেখানেও জুয়ার আসর বসত কি না, তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।

ইতিমধ্যেই হেয়ার স্ট্রিট থানায় নির্দিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ধৃত প্রতীককে আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তাকে ২ মার্চ পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। এই চক্রের সঙ্গে শহরের আর কোন কোন প্রভাবশালী নাম জড়িয়ে রয়েছে এবং আন্তঃরাজ্য কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা জানতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন লালবাজারের গোয়েন্দারা।

Related Articles