প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নের ভারত সফরের মহড়া! জার্মানিতে কানাডার বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে জয়শঙ্কর
মূলত প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের রূপরেখা চূড়ান্ত করতেই দুই দেশের বিদেশমন্ত্রী এই পার্শ্ববৈঠকে বসেন।
Truth of Bengal: জার্মানির মিউনিখে আয়োজিত আন্তর্জাতিক সুরক্ষা সম্মেলনের মঞ্চে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং কানাডার বিদেশমন্ত্রী অনিতা আনন্দ। আগামী মাসে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নের ভারত সফরের আগে এই বৈঠককে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল। কানাডার বিদেশ দপ্তর জানিয়েছে, মূলত প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের রূপরেখা চূড়ান্ত করতেই দুই দেশের বিদেশমন্ত্রী এই পার্শ্ববৈঠকে বসেন।
বৈঠক শেষে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সমাজমাধ্যমে জানান, কানাডার বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। এই আলোচনা ভারত ও কানাডার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের স্থিতিশীল অগ্রগতিরই প্রতিফলন। অন্যদিকে অনিতা আনন্দ জানিয়েছেন, শক্তি, প্রযুক্তি এবং বাণিজ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে ভারতের সঙ্গে সহযোগিতা আরও গভীর করতে কানাডা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের পর থেকে এটি দুই দেশের মন্ত্রী পর্যায়ের পঞ্চম বৈঠক, যা নির্দেশ করে যে তলানিতে ঠেকে যাওয়া কূটনৈতিক সম্পর্ক আবার মূল ধারায় ফিরতে শুরু করেছে।
উল্লেখ্য, কানাডার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সময়কালে খলিস্তানি ইস্যুতে ভারত ও কানাডার সম্পর্কের চরম অবনতি হয়েছিল। তবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নে দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারতীয় বংশোদ্ভূত অনিতা আনন্দকে বিদেশমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করাকে নয়াদিল্লির প্রতি একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তামিল ও পঞ্জাবি বংশোদ্ভূত অনিতা পেশাগত জীবনে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী এবং এর আগে কানাডার প্রতিরক্ষা ও বিজ্ঞান-প্রযুক্তি দপ্তরের দায়িত্বও অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সামলেছেন।
অনিতা আনন্দের পারিবারিক প্রেক্ষাপট ভারতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ষাটের দশকে তাঁর চিকিৎসক বাবা-মা ভারত থেকে কানাডায় পাড়ি দিয়েছিলেন। ২০১৯ সালে প্রথমবার সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর অতিমারি পরিস্থিতিতে টিকা আমদানির ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা কানাডায় প্রশংসিত হয়েছিল। এমনকি ট্রুডোর ইস্তফার পর প্রধানমন্ত্রী পদের অন্যতম দাবিদার হিসেবেও তাঁর নাম উঠে এসেছিল।






