“সংখ্যালঘুরা সমাজবিরোধী”—বুদ্ধের পথে হেঁটে বিধানসভায় বিভেদের রাজনীতি অগ্নিমিত্রা পালের
ট্রেজারি বেঞ্চের বিধায়কেরা বিজেপি বিধায়কের বক্তব্যের কড়া নিন্দা জানিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তোলেন।
Truth Of Bengal: সংখ্যালঘু মানেই কি যাবতীয় বিদ্বেষের শিকার? সেই প্রশ্নই নতুন করে উঠে এল রাজ্য বিধানসভায়। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য থেকে প্রাক্তন সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়ের পথ অনুসরণ করেই বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল বিভাজনের রাজনীতি করলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার বিধানসভার অধিবেশনে বাজেট বিতর্কে অংশ নিয়ে অগ্নিমিত্রা পাল দাবি করেন, সংখ্যালঘু উন্নয়নের নামে কোটি কোটি টাকা খরচ করে রাজ্য সরকার মূলত সমাজবিরোধী তৈরি করছে।
এই মন্তব্য ঘিরেই বিধানসভা কক্ষে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। ট্রেজারি বেঞ্চের বিধায়কেরা বিজেপি বিধায়কের বক্তব্যের কড়া নিন্দা জানিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তোলেন। যদিও বক্তব্য রাখার পরেই অগ্নিমিত্রা পাল অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেন এবং সারা দিনে আর বিধানসভায় ফেরেননি।
পরে পরিষদীয় মন্ত্রী শোভন দেব চট্টোপাধ্যায় শাসক দলের বিধায়কদের সমর্থনে অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে নিন্দা প্রস্তাব জমা দেন। অধ্যক্ষ সেই নিন্দা প্রস্তাব পাঠ করে এ ধরনের মন্তব্যকে বিধানসভার জন্য অনভিপ্রেত বলে উল্লেখ করেন এবং প্রকাশ্যে তার নিন্দা জানান। তবুও শাসক দলের বিধায়কেরা বিজেপি বিধায়কের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবিতে অনড় থাকেন।
কক্ষে উপস্থিত সংখ্যালঘু বিধায়ক ও মন্ত্রীরাও অগ্নিমিত্রা পালের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা করেন এবং শাস্তির দাবি জানান। অধিবেশন শেষ হওয়ার পর বিধানসভার কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকেও বিষয়টি উঠে আসে। সেখানে শাসক দলের বিধায়ক ও মন্ত্রীরা অগ্নিমিত্রা পালের বিরুদ্ধে স্বাধিকার ভঙ্গের দাবি জানান। অধ্যক্ষ নিয়ম অনুযায়ী লিখিত আবেদন করতে বলেন।শুক্রবার রাত পর্যন্ত পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, শনিবার বিধানসভায় অগ্নিমিত্রা পালের বিরুদ্ধে স্বাধিকার ভঙ্গের নোটিশ দিতে পারে ট্রেজারি বেঞ্চ। সেই নোটিশের ভিত্তিতে অধ্যক্ষ কড়া পদক্ষেপ করবেন কি না, তা নিয়েই জোর চর্চা শুরু হয়েছে বিধানসভায়।






