নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ, মুখ্য সচিবকে কড়া চিঠি কমিশনের
বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বারবার নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও রাজ্য সরকার এখনও পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গভাবে তা কার্যকর করেনি
Truth of Bengal: নির্বাচন কমিশনের একাধিক নির্দেশ এখনও মানা হয়নি—এই অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিল কমিশন। রাজ্যের মুখ্য সচিবকে পাঠানো এক চিঠিতে কমিশন জানিয়েছে, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বারবার নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও রাজ্য সরকার এখনও পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গভাবে তা কার্যকর করেনি।
নির্বাচন কমিশনের চিঠিতে মোট পাঁচটি বিষয় উল্লেখ করে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে:-
প্রথমত, ভোটার তালিকা সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে ২ জন ইআরও, ২ জন এআরও এবং ১ জন ডেটা এন্ট্রি অপারেটরের বিরুদ্ধে এখনও এফআইআর দায়ের করা হয়নি বলে জানিয়েছে কমিশন। জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫০ এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ২০২৩ অনুযায়ী এই পদক্ষেপ বাধ্যতামূলক হলেও রাজ্য তা কার্যকর করেনি বলে অভিযোগ।
দ্বিতীয়ত, বশিরহাট–২ ব্লকের বিডিও তথা এআরও সুমিত্র প্রতিম প্রধানকে এখনও সাসপেন্ড করা হয়নি। কমিশনের অভিযোগ, তিনি আইন বহির্ভূতভাবে ১১ জন অতিরিক্ত এআরও নিয়োগ করে শুনানির নির্দেশ জারি করেছিলেন। এই বিষয়ে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা নিতে বলা হলেও রাজ্য সরকার তা মানেনি।
তৃতীয়ত, তিন জন ইলেক্টোরাল রোল অবজার্ভার—অশ্বিনী কুমার যাদব, রণধীর কুমার এবং স্মিতা পান্ডের বদলি বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন। কমিশনের দাবি, ওই বদলি কমিশনের এসআইআর সংক্রান্ত নির্দেশিকার পরিপন্থী হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা প্রত্যাহার করা হয়নি।
চতুর্থত, কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী এসডিও/এসডিএম স্তরের আধিকারিকদের ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার হিসেবে নিয়োগ করার কথা থাকলেও রাজ্য সরকার সেই নিয়ম মানেনি বলে অভিযোগ। এমনকি এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশও লঙ্ঘিত হয়েছে বলে কমিশনের চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে।
পঞ্চমত, রিটার্নিং অফিসার নিয়োগের ক্ষেত্রেও একইভাবে কমিশনের নির্দিষ্ট মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়নি বলে জানানো হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, উপরোক্ত সব বিষয়ের পূর্ণাঙ্গ কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি, সোমবার বিকেল ৩টার মধ্যে জমা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব না এলে কমিশন পরবর্তী কড়া পদক্ষেপ করতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রের ইঙ্গিত।






