আন্তর্জাতিকদেশ

গ্রহের ফেরে টালমাটাল বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতি! ফেব্রুয়ারিতে বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা

ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সম্পদের সঠিক বণ্টনই এই সংকটময় সময় উত্তরণের পথ হতে পারে।

Truth Of Bengal: জ্যোতিষশাস্ত্রের প্রাচীন গণনা ও বর্তমান পঞ্জিকার গাণিতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাস বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত সংবেদনশীল হতে চলেছে। মহাকাশে একাধিক প্রভাবশালী ও ক্রূর গ্রহের বিরল অবস্থান পৃথিবীর জন্য কেবল পরিবর্তন নয়, বরং একটি ‘গ্লোবাল রিসেট’ বা বিশ্বব্যবস্থা পুনর্গঠনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

২০২৬-এর ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে কুম্ভ রাশিতে সূর্য, বুধ, শুক্র ও রাহুর মিলন ঘটবে, যাকে জ্যোতিষ পরিভাষায় ‘সামূলক গ্রহ-সংঘাত’ বলা হয়। রাহু ও সূর্যের এই অবস্থান বৈশ্বিক নেতৃত্ব ও রাষ্ট্রপ্রধানদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ইন্টারনেট, স্যাটেলাইট ও ডিজিটাল মুদ্রার ক্ষেত্রে বড় ধরনের বিপর্যয় বা ‘গ্লোবাল সাইবার আউটেজ’-এর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

মীন রাশিতে শনির অবস্থানের কারণে সামুদ্রিক বাণিজ্য ও জলপথ নিয়ে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণ চীন সাগর ও লোহিত সাগরের মতো অঞ্চলে সামুদ্রিক সীমানা নিয়ে বিরোধ সামরিক সংঘাতের দিকে মোড় নিতে পারে। অন্যদিকে, ১৪ ফেব্রুয়ারি মঙ্গল ধনিষ্ঠা নক্ষত্রে প্রবেশ করার ফলে সামরিক উস্কানি এবং কৌশলগত সংঘাত ‘হাই অ্যালার্ট’-এ চলে যেতে পারে।

জ্যোতিষ বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, পঞ্চতত্ত্বের ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন বাজারে ভিন্ন ভিন্ন প্রভাব পড়বে:

  • তথ্যপ্রযুক্তি ও এআই: বায়ু তত্ত্বের চাপে থাকা তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের সংশয় বাড়তে পারে, যার ফলে বাজারে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

  • ক্রুড অয়েল ও শিপিং: সরবরাহ সংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতার কারণে তেলের দামে আচমকা ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা যেতে পারে।

  • ব্যাঙ্কিং ও সোনা: ব্যাঙ্কিং খাতে আস্থার ঘাটতি তৈরি হলেও নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার দামে ঐতিহাসিক উত্থান দেখা যেতে পারে।

  • কৃষি ও রিয়েল এস্টেট: জমির দাম স্থিতিশীল থাকলেও কৃষি উৎপাদনে ব্যয় বৃদ্ধির ফলে কৃষকদের ওপর আর্থিক চাপ বাড়তে পারে।

ইতিহাসের ১৯১৪ এবং ১৯৩৯ সালের মতো বড় যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির সাথে ২০২৬-এর গ্রহগত অবস্থানের সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমান সময়কে ‘হাইব্রিড ওয়ার’ বা তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে লড়াইয়ের যুগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। জ্যোতিষতাত্ত্বিকদের মতে, এই বিশ্লেষণের উদ্দেশ্য ভয় দেখানো নয়, বরং সচেতন করা। ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সম্পদের সঠিক বণ্টনই এই সংকটময় সময় উত্তরণের পথ হতে পারে।

Related Articles