দেশ

রেল এখন মূল বাজেটের অংশ: নীতি পরিবর্তনের সুফল পাচ্ছেন তো যাত্রীরা? কী বলছে তথ্য?

৯২ বছরের পুরনো এই প্রথার সমাপ্তি ঘটিয়ে তৎকালীন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি ২০১৭-১৮ অর্থবর্ষের জন্য প্রথমবার একটি সম্মিলিত বাজেট পেশ করেন।

Truth of Bengal: দশক ধরে ভারতের আর্থিক ক্যালেন্ডারে রেল বাজেটের একটি স্বতন্ত্র ও বিশেষ গুরুত্ব ছিল। দীর্ঘ সময় ধরে সাধারণ বাজেটের থেকে পৃথকভাবে এটি পেশ করা হতো। তবে ২০১৭ সালে এই দীর্ঘকালীন প্রথাটির অবসান ঘটিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার রেল বাজেটকে সাধারণ বাজেটের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেয়। ৯২ বছরের পুরনো এই প্রথার সমাপ্তি ঘটিয়ে তৎকালীন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি ২০১৭-১৮ অর্থবর্ষের জন্য প্রথমবার একটি সম্মিলিত বাজেট পেশ করেন। বাজেট প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও বাস্তবসম্মত করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। মূলত নীতি আয়োগের সদস্য বিবেক দেবরায়ের নেতৃত্বাধীন একটি কমিটির সুপারিশ এবং দেবরায় ও কিশোর দেশাইয়ের লেখা একটি বিশেষ গবেষণাপত্রের ভিত্তিতেই এই বড় সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়। সেই গবেষণাপত্রে কয়েক দশকের পুরনো এই প্রথা বন্ধ করার জোরালো দাবি জানানো হয়েছিল, যা তৎকালীন রেলমন্ত্রী সুরেশ প্রভুর কাছে জমা দেওয়া হয়েছিল।

পরবর্তীতে সুরেশ প্রভু নিজে রেল বাজেটকে কেন্দ্রীয় বাজেটের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়টি উত্থাপন করেন। ২০১৬ সালে রাজ্যসভায় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন এবং শেষ পর্যন্ত দুটি বাজেটকে একীভূত করেন। এই সংযুক্তিকরণের মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশের সামগ্রিক আর্থিক অবস্থার একটি স্বচ্ছ ও পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরা। রেলওয়ে এবং অন্যান্য ব্যয়কে আলাদা করে না দেখে একটি একক ও সমন্বিত বাজেট হিসেবে বিচার করাকেই শ্রেয় মনে করেছিল সরকার। এই নতুন ব্যবস্থার ফলে রেল, মহাসড়ক এবং জলপথের মধ্যে আরও ভালো সমন্বয় সাধন সম্ভব হয়েছে, যা ভারতের মাল্টিমোডাল ট্রান্সপোর্ট বা বহুমুখী পরিবহন ব্যবস্থার পরিকল্পনাকে আরও গতিশীল করেছে। রেল বাজেটকে মূল বাজেটের অন্তর্ভুক্ত করার ফলে বেশ কিছু প্রশাসনিক পরিবর্তন ও সুবিধাও যুক্ত হয়েছে। বর্তমানে অর্থ মন্ত্রক একটি একক অ্যাপ্রোপ্রিয়েশন বিল পেশ করে, যা সংসদের যাবতীয় আইনি কাজ সম্পন্ন করে।

তবে বাজেট মিশে গেলেও রেল মন্ত্রক তাদের দৈনন্দিন কাজ আগের মতোই স্বাধীনভাবে পরিচালনা করছে। কেন্দ্রীয় বাজেটের মধ্যেই রেলের জন্য পৃথক অনুদানের দাবি এবং প্রাক্কলিত ব্যয়ের বিস্তারিত বিবৃতি থাকে। এই নতুন কাঠামোর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো রেলকে এখন আর সরকারকে ডিভিডেন্ড বা লভ্যাংশ দিতে হয় না। এছাড়া রেলওয়ের পুরনো যাবতীয় ক্যাপিটাল-অ্যাট-চার্জ বা দায়ভারও মুছে ফেলা হয়েছে, যা রেলের আর্থিক বোঝা অনেকটা লাঘব করেছে।

Related Articles