দেশ

৮ লক্ষ টাকাতেও মেটেনি খিদে! মাত্র ২ লক্ষের জন্য অকথ্য অত্যাচার, শ্বশুরবাড়িতে উদ্ধার তরুণীর ঝুলন্ত দেহ

এই অভিযোগের ভিত্তিতে কীর্তিশ্রীর স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।

Truth of Bengal: বেঙ্গালুরুতে শ্বশুরবাড়ি থেকে এক তরুণীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। মৃতের নাম কীর্তিশ্রী, বয়স মাত্র ২৪ বছর। গত রবিবার দক্ষিণ বেঙ্গালুরুর ইয়েদিয়ুর এলাকার বাড়ি থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার করা হলেও মঙ্গলবার বিষয়টি জনসমক্ষে আসে। মৃতার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, বিয়ের পর থেকেই পণের দাবিতে তাঁর ওপর অসহনীয় মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হত। এই অভিযোগের ভিত্তিতে কীর্তিশ্রীর স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।

তদন্তকারী সূত্রের খবর, পেশায় জিম ট্রেনার গুরুপ্রসাদের সঙ্গে ২০২৩ সালে বিয়ে হয়েছিল কীর্তিশ্রীর। পরিবারের দাবি, ধুমধাম করে মেয়ের বিয়ে দিতে তাঁরা প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা খরচ করেছিলেন। তবে বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই বাপের বাড়ি থেকে বাড়তি টাকা নিয়ে আসার জন্য তাঁর ওপর চাপ সৃষ্টি করা শুরু হয়। পরিস্থিতি জটিল হয় গত বছরের ডিসেম্বরে, যখন বাড়ি তৈরির অজুহাতে গুরুপ্রসাদ ১০ লক্ষ টাকা দাবি করেন। মেয়ের কথা ভেবে পরিবার ৮ লক্ষ টাকা জোগাড় করে দিলেও বাকি ২ লক্ষ টাকার জন্য কীর্তিশ্রীর ওপর অকথ্য অত্যাচার চালানো হত বলে অভিযোগ। মৃতার স্বজনদের দাবি, গত কয়েকদিনে এই মানসিক চাপ ও পারিবারিক অশান্তি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছিল। সেই গ্লানি ও যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরেই হয়তো আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন কীর্তিশ্রী। মেয়ের অকাল মৃত্যুর খবর পেয়েই কান্নায় ভেঙে পড়ে পরিবারটি এবং দ্রুত পুলিশের দ্বারস্থ হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই ঘটনার তদন্তে তৎপর হয়েছে পুলিশ প্রশাসন।

ইতিমধ্যেই কীর্তিশ্রীর স্বামী ও তাঁর বাবা-মাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়েছে। এটি কেবল পণের দাবিতে আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো গভীর রহস্য রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা করছে পুলিশ। এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

Related Articles