সারান্ডায় যৌথ বাহিনীর গুলিতে নিকেশ ১২ জন সশস্ত্র মাওবাদী, জঙ্গলজুড়ে চিরুনি তল্লাশি
Truth of Bengal: ঝাড়খণ্ডের পশ্চিম সিংভূম জেলার চাইবাসায় মাওবাদীদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত সারান্ডার জঙ্গলে বৃহস্পতিবার ভোরবেলা থেকে শুরু হয়েছে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। কোবরা ব্যাটালিয়ন, সিআরপিএফ এবং ঝাড়খণ্ড পুলিশের যৌথ অভিযানে শেষ পাওয়া খবর পর্যন্ত ১২ জন মাওবাদী নিহত হয়েছেন। কোলহান ডিভিশনের ডিআইজি অনুরঞ্জন কিস্পেট্টা এই অভিযানে মাওবাদীদের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন। জঙ্গল জুড়ে এখনও গুলির লড়াই অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্রে খবর এসেছিল যে, ছোটানাগারা থানা এলাকার অন্তর্গত কুম্বাডিহি গ্রামের কাছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন সশস্ত্র মাওবাদী জমায়েত হয়েছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই সিআরপিএফ এবং ঝাড়খণ্ড পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা দ্রুত অভিযানের ছক সাজান। পরিকল্পনা অনুযায়ী কোবরা বাহিনী, ঝাড়খণ্ড জাগুয়ার এবং জেলা পুলিশকে নিয়ে একটি শক্তিশালী যৌথ দল তৈরি করা হয়। বৃহস্পতিবার ভোরের আলো ফোটার আগেই বিশাল বাহিনী জঙ্গল ঘিরে ফেলে। জঙ্গল এতটাই ঘন যে তার সুযোগ নিয়ে মাওবাদীরা যৌথ বাহিনীকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলিবর্ষণ শুরু করে। পালটা জবাব দেয় নিরাপত্তাবাহিনীও।
ঝাড়খণ্ড থেকে মাওবাদী সংগঠনকে পুরোপুরি নির্মূল করার পথে এই সারান্ডার জঙ্গলই নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে সবথেকে বড় বাধা। দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান এবং প্রাকৃতিক পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে মাওবাদীরা দীর্ঘদিন ধরে এখানে তাদের কার্যকলাপ চালিয়ে আসছে। গোয়েন্দা রিপোর্ট বলছে, বর্তমানে এই এলাকার পাহাড় ও জঙ্গলের দখল নিয়ে রয়েছে সিপিআই (মাওবাদী)র পলিটব্যুরো সদস্য মিশির বেসরার নেতৃত্বাধীন একটি শক্তিশালী বাহিনী। প্রায় ৬০ জনের এই বিশেষ দলে রয়েছেন অনল দাঁ এবং অসীম মণ্ডলের মতো শীর্ষ সারির কুখ্যাত মাওবাদী নেতারা।
বর্তমানে কুম্বাডিহি এবং সংলগ্ন বিশাল এলাকা যৌথ বাহিনীর ঘেরাটোপে রয়েছে। অতিরিক্ত বাহিনীও ঘটনাস্থলে পাঠানো হচ্ছে। জঙ্গল থেকে নিহত মাওবাদীদের দেহ উদ্ধার এবং তাদের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। দীর্ঘদিনের এই সংঘাতের আবহে ১২ জন ক্যাডারের মৃত্যু মাওবাদী সংগঠনের কাছে বড়সড় ধাক্কা বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।






