দেশ

নৌসেনার শক্তি বাড়াতে বড় পদক্ষেপ, জার্মানির সঙ্গে সাবমেরিন চুক্তি করতে চলেছে ভারত

এই প্রকল্পের বিশেষত্ব হলো এতে থাকবে ‘এয়ার-ইন্ডিপেনডেন্ট প্রপালশন’ প্রযুক্তি, যা সাবমেরিনগুলিকে জলের নীচে দীর্ঘ সময় নিঃশব্দে ও অদৃশ্য থেকে চলাচলের ক্ষমতা দেবে।

Truth Of Bengal: মেক ইন ইন্ডিয়া উদ্যোগকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে এবং ভারতীয় নৌসেনার সমরসম্ভারকে আরও শক্তিশালী করতে একটি ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তি সম্পন্ন হতে চলেছে। জার্মানির ‘থাইসেনক্রুপ মেরিন সিস্টেমস’ এবং ভারতের ‘মাজাগন ডক শিপবিল্ডার্স লিমিটেড’-এর যৌথ উদ্যোগে প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার (৭০ হাজার কোটি টাকার বেশি) ব্যয়ে ছয়টি অত্যাধুনিক সাবমেরিন তৈরির আলোচনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। ‘প্রজেক্ট ৭৫ আই’-এর আওতাধীন এই চুক্তিটি ২০২৬ সালের শুরুতেই স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এই প্রকল্পের বিশেষত্ব হলো এতে থাকবে ‘এয়ার-ইন্ডিপেনডেন্ট প্রপালশন’ প্রযুক্তি, যা সাবমেরিনগুলিকে জলের নীচে দীর্ঘ সময় নিঃশব্দে ও অদৃশ্য থেকে চলাচলের ক্ষমতা দেবে। ভারত মহাসাগরে চিনের ক্রমবর্ধমান আধিপত্য মোকাবিলায় এই প্রযুক্তি ভারতের জন্য এক অত্যন্ত শক্তিশালী কৌশলগত হাতিয়ার হয়ে উঠবে।

দীর্ঘ দুই দশক ধরে নানা প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত জটিলতায় থমকে থাকার পর অবশেষে এই মেগা প্রকল্প গতি ফিরে পেয়েছে। লার্সেন অ্যান্ড টুব্রো (L&T)-র প্রস্তাব বাতিল হওয়ার পর জার্মান সংস্থা TKMS-এর পথ প্রশস্ত হয় এবং তারা মুম্বই-ভিত্তিক মাজাগন ডকের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধে। এই চুক্তির অধীনে সাবমেরিনগুলি জার্মানির ‘টাইপ ২১৪’ নকশা অনুসরণ করে সম্পূর্ণভাবে ভারতেই তৈরি করা হবে। প্রকল্পের শুরু থেকেই কাজের অন্তত ৬০ শতাংশ স্থানীয় উপকরণ ব্যবহার করে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদন ব্যবস্থায় এক বড় সাফল্য হিসেবে গণ্য হচ্ছে। মাজাগন ডক ইতিপূর্বে স্করপিন শ্রেণির সাবমেরিন তৈরির অভিজ্ঞতা সম্পন্ন হওয়ায়, বিদেশি প্রযুক্তির সঠিক প্রয়োগে তারা বিশেষ পারদর্শিতা দেখাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ভারতের প্রতিরক্ষা ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ এই চুক্তিটি কেবল নৌসেনার শক্তি বৃদ্ধিই করবে না, বরং দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কয়েক হাজার দক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান হবে এবং উন্নত প্রযুক্তির হাত ধরে দেশীয় শিল্পক্ষেত্রে নতুন দিশা খুলবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩২ সালে ভারতীয় নৌসেনা প্রথম সাবমেরিনটি পেতে পারে এবং ২০৪০ সালের মধ্যে বাকি পাঁচটি সাবমেরিন বহরে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ভারত ও জার্মানির দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে এবং ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভারতের নজরদারি ও পাল্টা আঘাত হানার ক্ষমতা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে।