Truth Of Bengal: অরুণাচল প্রদেশকে কেন্দ্র করে ভারত চীনের প্রতি ফের কড়া বার্তা দিয়েছে। নয়া দিল্লির পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, অরুণাচল ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং এই প্রদেশকে নিয়ে চীনের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের অবনতি কখনো কাম্য নয়। বেজিং প্রশাসনকে এই বিষয়টি মাথায় রেখে কূটনৈতিকভাবে এগোতে হবে।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল ইতিমধ্যে এই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তবে চীন এই মুহূর্তে কোনো উত্তর দেয়নি। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বেজিং থেকে শীঘ্রই পাল্টা প্রতিক্রিয়া আসতে পারে।
ভারত শুধু চীনকেই সতর্ক করেনি, দেশের নাগরিকদেরও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, চীনে গেলে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানো এবং নথিপত্র সংক্রান্ত কোনো জটিলতার সুযোগ না দেয়ার জন্য সতর্ক থাকা।
ভারতের এই পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে গত মাসের একটি ঘটনার প্রেক্ষাপট। অরুণাচল প্রদেশের একজন মহিলা লন্ডন থেকে চীনের সাংহাই বিমানবন্দরে নেমেছিলেন টোকিও যাওয়ার পথে। সাংহাইয়ের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে স্বীকার করতে অস্বীকৃতি জানায় এবং অরুণাচলকে চীনের অংশ বলে দাবি করে। ওই যাত্রীকে বাধ্য করা হয় পাসপোর্ট সহ সাংহাই ত্যাগ করতে।
ঘটনাটি দুই দেশের মধ্যে নতুন করে চিড় ধরেছে। বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ যে, এই সময়ে ভারত ও চীন তাদের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫ বছর উদযাপন করছে। দুই দেশের প্রতিনিধিদলও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়নের জন্য পাঠানো হয়েছে।
অরুণাচল প্রদেশের ওই মহিলা সামাজিক মাধ্যমে ঘটনার বিবরণ জানিয়ে বলেন, সাংহাই বিমানবন্দরে তাঁকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের সম্মুখীন হতে হয়েছে। তিনি এটিকে ভারতের সার্বভৌমত্বের পক্ষে এক চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে নয়া দিল্লি চীনকে সতর্ক করেছে, যাতে ভবিষ্যতে যাত্রী হেনস্থা পুনরায় না ঘটে। চীনের প্রতি স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, অরুণাচল নিয়ে বেজিংয়ের মনোভাব মোটেই বন্ধু সুলভ নয় এবং তাদের এই দাবি ত্যাগ করতে হবে। পাশাপাশি ভারতীয় নাগরিকদেরও সতর্কভাবে পদক্ষেপ করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।






