রাজ্যের খবর

একশো টাকার জন্য মাথা থেঁতলে খুন! যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ২ দোষীর

যেখানে ঘটনা ঘটেছিল সেখানে এক নিরাপত্তা রক্ষী অভিযুক্ত যুগলকে আনোয়ারের সঙ্গে বচসা করতে দেখেছিলেন।

রাকেশ চক্রবর্তী, হুগলি: গত ৭ জুন ২০১৯ রাত তিনটে নাগাদ মগড়া কাঁটাপুকুর এলাকায় একটি দোকানের সামনে রক্তাক্ত জখম অবস্থায় পরে থাকতে দেখা যায় মহঃ আনোয়ারকে (২৩)। তার বাড়ি মগড়া গঞ্জ নতুন গ্রাম এলাকায়। সন্ধার পর থেকে তার খোঁজ মিলছিল না। টহলদারি পুলিশ ওই যুবককে পরে থাকতে দেখে থানায় খবর দেয়। মৃত যুবককে উদ্ধার করে মগড়া গ্রামীন হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ। মৃত আনোয়ারের মামা রঞ্জিত সাউ পরদিন থানায় অভিযোগ করেন নির্দিষ্ট করে কৃষ্ণা বাউল দাস ও লক্ষ্মী রায়ের বিরুদ্ধে। যেখানে ঘটনা ঘটেছিল সেখানে এক নিরাপত্তা রক্ষী অভিযুক্ত যুগলকে আনোয়ারের সঙ্গে বচসা করতে দেখেছিলেন।

সেই সূত্র ধরে পুলিশ দুজনকে গ্রেফতার করে। মামলার তদন্তকারী অফিসার ছিলেন গৌতম মন্ডল। বাদি পক্ষের সরকারি আইনজীবী ছিলেন সুব্রত ভট্টাচার্য। মোট ২৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহন করান তিনি।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, লক্ষ্মী একশ টাকা পেতেন আনোয়ারের কাছে। সেই টাকা চাওয়া নিয়ে বচসা চলার সময় লক্ষ্মীর সঙ্গী কৃষ্ণা মাথায় আধলা ইঁট দিয়ে থেঁতলে খুন করে আনোয়ারকে। তারপর দুজনে পালিয়ে যায়। দুজনের বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক ছিল।

মঙ্গলবার চুঁচুড়া আদালতের অতিরিক্ত জেলা দায়রা বিচারক সঞ্জয় কুমার শর্মা বিশ্রাম  অভিযুক্ত দুই জনের সাজা ঘোষনা করেন। যাবজ্জীবন কারাদন্ড, পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করে আদালত।

মৃত যুবকের মাকে দুই লাখ টাকা ক্ষতিপূরন দেওয়ার নির্দেশ দেন। হুগলি জেলা সরকারি আইনজীবী শংকর গাঙ্গুলী বলেন, তদন্তকারী অফিসার খুব ভালো কাজ করেছেন। সাক্ষ্য প্রমান দাখিল করেছেন। আদালতের সরকারি আইনজীবীরা খুব ভাল সওয়াল জবাব করছেন তাই একের পর এক মামলায় ভালো রায় হচ্ছে জেলা আদালতে। এই রায়ে খুশি যুবকের মা ও মামা।