রাজ্যের খবর

শীত পড়তেই  বেশি ব্যাস্ত হয়ে ওঠে সীমান্তবর্তী মাজদিয়া, কেন জানেন?

এই শীতে যাবেন নাকি গুড় কিনতে? খেজুরের গুড়ে সুস্বাদ আজও বজায় রয়েছে এই এলাকায়।

সুব্রত দত্ত, রানাঘাট: নদিয়ার বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী একটি প্রাচীন গ্রামীন এলাকা মাজদিয়া। চূর্নি নদীর তীরে একটি বর্ধিষ্ণু গ্রাম। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এই গ্রাম। শীতকালে এক অন্য অনুভূতি এই গঞ্জ এলাকায়। নলেন গুড়ের গন্ধে ম-ম করে মাজদিয়া, কৃষ্ণগঞ্জ, বগুলা, হাঁসখালি, তারকনগর প্রকৃতি এলাকা। বাঙালি আর নলেন গুড় এক দারুন কম্বিনেশন, শীত পড়লেই মাজদিয়া, বানপুর এলাকায় খেজুর গাছে ওঠে অমৃতের হাঁড়ি, আর বাজার গুলিতে আসে বাইরের বণিক বা ব্যাবসাদাররা।

এমনিতে মাজদিয়াতেই আছে অনেক বেড়ানোর জায়গা। চূর্নি নদীর পাড়ে রয়েছে শিব নিবাস, এই শিবনিবাসে রয়েছে এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শিবলিঙ্গ। রানাঘাট-গেদে শাখায় মাজদিয়ার পরবর্তী স্টেশন বানপুর। সেখান থেকে টোটো ভাড়া করে গেদে পর্যন্ত একটি গ্রামীণ রাস্তা দিয়ে ভ্রমণ করলেই বাংলাদেশ সীমান্তের বহু এলাকা ঘুরে আসতে পারবেন। দেখে আসতে পারবেন ভারত বাংলাদেশ বর্ডার এর কিছুটা অংশ। এই শীতে যাবেন নাকি গুড় কিনতে? খেজুরের গুড়ে সুস্বাদ আজও বজায় রয়েছে এই এলাকায়।

আর মাজদিয়ার কাদাঘাটা, স্বর্ণখালি, জয়ঘাটা, সীতানাথপুর এলাকায় এই শীতের মরশুমে শিউলিরা থাকেন চূড়ান্ত ব্যস্ত। ভোরবেলা খেজুর গাছ থেকে রস পেড়ে নিয়ে আসা তারপর জ্বাল দিয়ে গুড় তৈরি, চূড়ান্ত ব্যস্ততা। আবার দুপুরের মধ্যে শিউলিরা গাছ চাঁচ দেন। এই নিয়ে দিনভর চলে ছোটাছুটি। জিরেন রসের সুস্বাদ পেতেও আপনি এই শীতের মরসুমে একবার চলে আসতে পারেন মাজদিয়া। জিরেন রস পান যেন অমৃতসুধা।

এই এলাকার পর্যটনের সঙ্গে রসের সুস্বাদ পেতে আর দেরি কেন, ছুটির দিন দেখে সকাল সকাল বেরিয়ে পড়ুন। শিয়ালদহ থেকে আসতে চাইলে গেদে লোকাল ধরুন। মাজদিয়া রেলস্টেশনে নামতে হবে। স্টেশন সংলগ্ন বাজারে গুড়ের হাট বসে এই সময়। তবে প্রথমে আপনি ঘুরতে বেরিয়ে পড়ুন। যদি খেজুর রস খেতে চান স্টেশন ও সংলগ্ন এলাকায় পেয়ে যাবেন। কয়েক গ্লাস রস পান করে টোটো ভাড়া করে চলে আসুন শিবনিবাস। মাঝে কৃষ্ণগঞ্জ বাজারের আগে চূর্নি নদীর ব্রিজের ওপর কিছুক্ষণ সময় কাটাতে পারেন।

তারপর চূর্নি নদী পার হয়ে প্রাচীন এই মন্দির প্রাঙ্গণে সময় কাটান। রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের তৈরি প্রাচীন শিব মন্দির। বর্গির ভয়ে একসময় এই কৃষ্ণগঞ্জে রাজধানী নিয়ে এসেছিলেন তিনি। স্বপ্নাদেশ পেয়ে মন্দির নির্মাণ করেছিলেন। এশিয়া মহাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শিবলিঙ্গ রয়েছে এখানকার মন্দিরে। ফেরার পথে কৃষ্ণগঞ্জ বা মাজদিয়া বাজার থেকে পছন্দের ও সুস্বাদু গুড় কিনে নিয়ে যান বাড়িতে। এই এলাকায় টিউবেও নলেন গুড় বিক্রি হয়। বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এই জনপদ গোটা রাজ্যে সেরা খেজুর রস ও গুড়ের জন্য বিখ্যাত।

স্থানীয় বাসিন্দা ভবতোষ ঘোষ বলেন, শীতের মরশুমে কলকাতা শহর রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা থেকে পর্যটকরা এই এলাকায় ভিড় জমান। অধিকাংশ আসেন খেজুর গুড়ের জন্য। কারণ এই এলাকার খেজুর গুড় আজও গোটা বাংলার মধ্যে স্বাদে ও গুণগত মানে সেরা। তবে আগের তুলনায় শিউলির সংখ্যা কমেছে। খেজুর গাছের সংখ্যাও অনেক কমে গিয়েছে। সে কারণে চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন হয় না। সাধারণ মানুষের চাহিদা মেটে না এখানকার উৎপাদনে।