স্পাইসজেটের একের পর এক প্রযুক্তিগত ত্রুটি, যাত্রীরা বিপাকে
বিমান সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এসজি ৪৯৭ নামের ওই ফ্লাইটটি বোয়িং ৭৩৭ বিমান দিয়ে পরিচালিত হচ্ছিল।
Truth Of Bengal: ছটপুজোর আগে বড়সড় বিপত্তি ঘটল স্পাইসজেটের এক বিমানযাত্রায়। বৃহস্পতিবার সকালে দিল্লি থেকে পাটনাগামী একটি স্পাইসজেট বিমান আকাশে ওড়ার কিছুক্ষণ পরই প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে ফের ফিরে আসে দিল্লি বিমানবন্দরে।
বিমান সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এসজি ৪৯৭ নামের ওই ফ্লাইটটি বোয়িং ৭৩৭ বিমান দিয়ে পরিচালিত হচ্ছিল। টেকঅফের পরই পাইলট একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটি লক্ষ্য করেন। এরপর সতর্কতার সঙ্গে বিমানটি দিল্লি বিমানবন্দরে স্বাভাবিকভাবে অবতরণ করে। বিমানে থাকা সমস্ত যাত্রী নিরাপদে নামতে সক্ষম হন। তবে কতজন যাত্রী বিমানে ছিলেন, সে বিষয়ে কিছু জানায়নি স্পাইসজেট।
সংস্থার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “২৩ অক্টোবর দিল্লি থেকে পাটনা যাওয়ার পথে স্পাইসজেট ফ্লাইট এসজি ৪৯৭ প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে উড্ডয়নের পরই দিল্লিতে ফিরে আসে। বিমানটি স্বাভাবিকভাবে অবতরণ করে এবং যাত্রীরা নিরাপদে নামেন। বিকল্প একটি বিমান দ্রুত প্রস্তুত করা হয়, যা যাত্রীদের নিয়ে পাটনার উদ্দেশে রওনা দিয়েছে।”
ঘটনাটি সাম্প্রতিক সময়ে স্পাইসজেটের একাধিক প্রযুক্তিগত সমস্যার ধারাবাহিকতার মধ্যে পড়ল। এর আগেও সেপ্টেম্বর মাসে কচ্ছের কান্ডলা থেকে মুম্বই যাওয়ার পথে এক স্পাইসজেট বিমানের বাইরের চাকাটি উড্ডয়নের সময় খুলে গিয়েছিল। তবে সৌভাগ্যবশত বিমানটি নিরাপদে মুম্বই বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমান সংস্থার মুখপাত্র তখন জানিয়েছিলেন, “উড্ডয়নের পর রানওয়েতে বিমানের বাইরের একটি চাকাটি পাওয়া যায়, তবে বিমানটি যাত্রা অব্যাহত রেখে নিরাপদে মুম্বইয়ে পৌঁছায় এবং নিজস্ব শক্তিতে টার্মিনালে প্রবেশ করে।”
এর পাশাপাশি আরও একটি ঘটনায় কাঠমাণ্ডুগামী স্পাইসজেট বিমানের ইঞ্জিনে সন্দেহজনক অগ্নিকাণ্ড দেখা দিয়েছিল দিল্লি বিমানবন্দরে। তবে পাইলটের তৎপরতায় বিমানটি দ্রুত নিরাপদে গেটে ফিরিয়ে আনা হয়। সংস্থার দাবি, ককপিটে কোনও সতর্কতা সংকেত দেখা যায়নি, পাইলট কেবলমাত্র সাবধানতামূলক ব্যবস্থা হিসেবেই বিমানটি ফিরিয়ে আনেন।
উল্লেখ্য, আর্থিক ও কার্যক্রমগত চ্যালেঞ্জের মুখে থাকা স্পাইসজেট চলতি অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে (এপ্রিল থেকে জুন) ২৩৪ কোটি টাকার নিট ক্ষতির কথা জানিয়েছে। গত বছরের একই সময়ে সংস্থাটি ১৫৮ কোটি টাকার লাভ করেছিল। সংস্থার মতে, বিমান স্থগিত থাকা, সেগুলোকে ফের চালু করার খরচ এবং আন্তর্জাতিক অস্থিরতার কারণে পর্যটন ভ্রমণ কমে যাওয়াই এই ক্ষতির মূল কারণ।




