Burn Safety: বাজি পোড়াতে গিয়ে বিপদ? চোখ ও ত্বক পুড়লে কী করবেন, কখন যাবেন ডাক্তারখানায়?
যদি বাজি পোড়ানোর সময় ত্বকের কোনো অংশ পুড়ে যায়, তবে একটি প্রচলিত ভুল ধারণা এড়িয়ে চলতে হবে।
Truth of Bengal: কালীপুজো মানেই আলোর উৎসবের পাশাপাশি বাজি পোড়ানোর অনাবিল আনন্দ। দূষণের সরাসরি যোগ থাকা সত্ত্বেও উৎসবের এই দিনটিতে অনেকেই বাজি পোড়ানো থেকে নিজেদের বিরত রাখতে চান না। তবে এই আনন্দ উদযাপনের সময়েই অসাবধানতার কারণে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটে। একটু অসতর্ক হলেই ত্বক পুড়ে যাওয়ার বা চোখে আঘাত লাগার আশঙ্কা থাকে। এই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে কী করণীয়, তা আগে থেকেই জেনে রাখা জরুরি (Burn Safety)।
ত্বক পুড়ে গেলে ভুলেও টুথপেস্ট নয়
যদি বাজি পোড়ানোর সময় ত্বকের কোনো অংশ পুড়ে যায়, তবে একটি প্রচলিত ভুল ধারণা এড়িয়ে চলতে হবে। অনেকেরই মনে হয় টুথপেস্ট ব্যবহার করলে পোড়া অংশের জ্বালা ভাব কমে যায়, কিন্তু এটি একেবারেই ঠিক নয়। টুথপেস্ট লাগালে পোড়া অংশে ইনফেকশনের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। এর পরিবর্তে, ত্বকে জ্বালা অনুভূত হলে দ্রুত অ্যান্টিবায়োটিক অয়েন্টমেন্ট ব্যবহার করা উচিত। কালীপুজোর আগে বাড়িতে সিলভার নাইট্রেট জাতীয় অয়েন্টমেন্ট কিনে রাখুন, যা পোড়া অংশে ব্যবহার করা যেতে পারে।
কখন যেতে হবে চিকিৎসকের কাছে?
হাত বা পায়ের ছোট অংশ পুড়ে গেলে সাধারণত বাড়িতে অয়েন্টমেন্ট ব্যবহারেই তা ঠিক হয়ে যায়। তবে মনে রাখতে হবে, ত্বকের বড় অংশ কিংবা মুখের মতো সংবেদনশীল অংশ পুড়ে গেলে বাড়িতে চিকিৎসা করা বিপজ্জনক। এমন পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক আরামের জন্য ঠান্ডা জলের ঝাপটা দিলেও, আর দেরি না করে রোগীকে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। ছোট বাচ্চাদের ক্ষেত্রে, কোনো অবস্থাতেই বাড়িতে রেখে পোড়ার চিকিৎসা করা উচিত নয় (Burn Safety)।
চোখ বাঁচিয়ে বাজি পোড়ান ও সতর্কতা
বাজি পোড়ানোর সময় চোখ রক্ষা করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বাজির ফুলকি চোখে ঢুকে গেলে মারাত্মক বিপদ ঘটতে পারে। এছাড়া, বাজির ধোঁয়ায় চোখ জ্বালা করা এবং অনবরত জল পড়ার মতো সমস্যা দেখা যায়। এমন কোনো পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে রোগীকে দেরি না করে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে, কারণ সামান্য দেরিতেও দৃষ্টিশক্তি হারানোর মতো ঝুঁকি থাকতে পারে।
সুরক্ষিতভাবে বাজি পোড়ানোর জন্য কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। বাজি পোড়ানোর সময় সুতির পোশাক পরুন এবং সিল্ক বা জর্জেটের মতো কৃত্রিম তন্তুর পোশাক এড়িয়ে চলুন। কখনও খালি পায়ে বাজি পোড়াবেন না। যেখানে বাজি পোড়াবেন, তার আশেপাশে সবসময় জলের কল বা জলভর্তি বালতি রাখুন যাতে দ্রুত আগুন নেভানো যায়। বাজির ধোঁয়া ফুসফুসের মারাত্মক ক্ষতি করে, তাই এই সময়ে সার্জিক্যাল মাস্ক ব্যবহার করা ভালো। বিশেষ করে যাঁরা হাঁপানি বা সিওপিডি-তে ভুগছেন, তাঁদের বাজির ধোঁয়া থেকে দূরত্ব বজায় রাখা আবশ্যক (Burn Safety)।






