আন্তর্জাতিক

Swiss Glaciers: বিশ্ব উষ্ণায়নের মারাত্মক প্রভাবে গত বছর সুইজারল্যান্ডের হিমবাহের আয়তন কমল ৩%

বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছেন যে, গত বছর হিমবাহের মোট আয়তন ৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, যা ইতিহাসে চতুর্থ-বৃহত্তম বার্ষিক পতন।

Truth of Bengal: বিশ্ব উষ্ণায়নের মারাত্মক প্রভাবে এই বছর সুইজারল্যান্ডের হিমবাহগুলিতে ‘অস্বাভাবিক’ হারে বরফ গলেছে। শীর্ষস্থানীয় সুইস হিমবাহ বিজ্ঞানীরা বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছেন যে, গত বছর হিমবাহের মোট আয়তন ৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, যা ইতিহাসে চতুর্থ-বৃহত্তম বার্ষিক পতন। সুইস গ্লেসিয়ার মনিটরিং গ্রুপ GLAMOS এবং সুইস অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সেস-এর নতুন প্রতিবেদন অনুসারে, ইউরোপের সবচেয়ে বেশি সংখ্যক হিমবাহের দেশ সুইজারল্যান্ডে গত এক দশকে মোট বরফের পরিমাণ এক-চতুর্থাংশেরও (২৫%) বেশি কমে গেছে।

বিজ্ঞানীরা বলেছেন, “২০২৫ সালেও সুইজারল্যান্ডে হিমবাহের বরফ গলন ছিল বিশাল। শীতকালে কম তুষারপাত এবং জুন ও আগস্ট মাসে তাপপ্রবাহের ফলে হিমবাহের আয়তনের ৩% ক্ষতি হয়েছে।” প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই বছর শীতকালে তুষারপাত ছিল সামান্য। এরপর জুন মাসে রেকর্ড দ্বিতীয় উষ্ণতম তাপপ্রবাহ হয়, যার ফলে জুলাই মাসের শুরুতেই তুষার সঞ্চয় পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়। ফলস্বরূপ, হিমবাহের বরফ গলতে শুরু করে অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক আগে।

সুইজারল্যান্ডের প্রায় ১,৪০০টি হিমবাহ রয়েছে এবং এই বরফ গলনের প্রভাব শুধুমাত্র সুইস জলবিদ্যুৎ, পর্যটন এবং কৃষির উপরই নয়, ইউরোপের বহু দেশের জলের উপরও পড়বে। বিজ্ঞানীরা আরও জানিয়েছেন যে, সুইজারল্যান্ডের ১,০০০টিরও বেশি ছোট হিমবাহ ইতিমধ্যেই পুরোপুরি অদৃশ্য হয়ে গেছে। GLAMOS-এর প্রধান এবং জুরিখের ETHZ বিশ্ববিদ্যালয়ের হিমবাহ বিজ্ঞানী ম্যাথিয়াস হাস (Matthias Huss) বলেন, “মানব সৃষ্ট বিশ্ব উষ্ণায়নের (anthropogenic global warming) কারণেই হিমবাহগুলি স্পষ্টতই দ্রুত পিছু হটছে। গত দুই বছরে আমরা বরফ গলার যে ত্বরণ দেখছি, তার প্রধান কারণ এটিই।”

রেকর্ড পতনের দিক থেকে এই বছরটি ২০০৩, ২০২২ এবং ২০২৩ সালের পরে চতুর্থ স্থানে রয়েছে। হিমবাহের পশ্চাদপসরণ এবং বরফ হারানোর ফলে সুইজারল্যান্ডের ভূ-প্রকৃতিতেও পরিবর্তন আসছে। এর ফলে পর্বতগুলি স্থানান্তরিত হচ্ছে এবং ভূমি অস্থিতিশীল হয়ে পড়ছে। এই ধরনের পরিবর্তনের কারণে সুইস কর্তৃপক্ষ উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। গত মে মাসে ব্ল্যাটেন গ্রামের কাছে একটি হিমবাহ থেকে বিশাল পরিমাণ পাথর এবং বরফ ধসে পড়ে প্রায় গোটা গ্রাম ঢেকে ফেলেছিল।

Related Articles