Ayodhya Estate Durga Puja: বাঁকুড়ার অযোধ্যা গ্রামের জমিদার বাড়ির প্রায় ২০০ বছরের প্রাচীন এই পুজোর ইতিহাস জানেন কি?
বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের সদস্য এবং অযোধ্যা দেবত্তর এষ্টেটের বর্তমার দায়িত্বপ্রাপক মনোহর বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, রামমোহন বন্দ্যোপাধ্যায় পুজো শুরু করার সময় দেবী মূর্তিতে বিশেষত্ব চেয়েছিলেন ৷
কৈলাস বিশ্বাস, বাঁকুড়া: উনিশ শতকে যে সমস্ত জমিদারি নজর কাড়তো বাংলাবাসীর তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল বাঁকুড়ার অযোধ্যা গ্রামের বন্দ্যোপাধ্যায়দের জমিদারি ৷ সেই জমিদার বাড়িতে প্রায় ২০০ বছর আগে দুর্গাপুজো শুরু করেছিলেন রামমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়। তা কালক্রমে আজও বহমান। বন্দোপাধ্যায়দের পূজোর বিষেশ বৈচিত্র বলতে তাদের প্রতিমায় দেবী দুর্গা সিংহবাহিনী নন, ব্যাঘ্রবাহিনী শুধু তাই নয় রয়েছে নজরকাড়া বিশেষ সাবেকিয়ানা ৷ দু’শো বছরের এই দুর্গাপুজোর জাঁকজমক আগের চেয়ে কমলেও, বন্দ্যোপাধ্যায়দের পুজোর ঐতিহ্য এবং রীতি আজ বজায় রয়েছে (Ayodhya Estate Durga Puja)৷
বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের সদস্য এবং অযোধ্যা দেবত্তর এষ্টেটের বর্তমার দায়িত্বপ্রাপক মনোহর বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, রামমোহন বন্দ্যোপাধ্যায় পুজো শুরু করার সময় দেবী মূর্তিতে বিশেষত্ব চেয়েছিলেন ৷ তাই চণ্ডীমঙ্গলের বর্ণনা অনুযায়ী, দেবী দুর্গা সিংহবাহিনী নন, ব্যাঘ্রবাহিনী ৷ এখানে প্রতিমার মুখ ছাঁচে ফেলে তৈরি হয় না ৷ বংশপরম্পরার প্রতিমা শিল্পী হাতে তৈরি করেন দেবীর মুখ ৷ এরকম মূর্তি বাঁকুড়া জেলায় দ্বিতীয়টি দেখা যায় না বলেই দাবি মনোহর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ৷
এই পূজোর ইতিহাস বলতে অযোধ্যা এস্টেটের প্রতিষ্ঠাতা রামমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিচয় হয় এক নীলকর সাহেবের সঙ্গে ৷ ওই নীলকর সাহেব যখন মৃত্যুশয্যায় সেই সময় তাঁর সম্পত্তির অর্ধেকাংশ রামমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়কে দান করে গিয়েছিলেন ৷ সেই বিপুল অর্থের খানিকটা দিয়ে একটি মৌজা কিনে অযোধ্যা গ্রামেই জমিদারির সূচনা করেন রামমোহন বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ কথিত, পরবর্তী সময়ে বাঁকুড়া ছাড়াও হুগলি, অবিভক্ত বর্ধমান ও অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা প্রায় পঁচাশিটি মৌজার জমিদার হয়ে উঠেছিল বন্দ্যোপাধ্যায়রা (Ayodhya Estate Durga Puja) ৷
আরও পড়ুনঃ Defense Strategy: ফোর্ট উইলিয়ামে আড়াই ঘণ্টা বৈঠক, সেনার সঙ্গে আলোচনা সেরেই বিহারের পথে মোদি
এমনকি কাশী, বেনারস ও তৎকালীন বিহারের বিভিন্ন জায়গায় সম্পত্তি তৈরি করেছিলেন বন্দ্যোপাধ্যায়রা ৷ জমিদারির রাজকোষে খাজনা জমা পড়ত বিপুল পরিমাণে ৷জমিদারির বিপুল আয়ে সেসময় অযোধ্যা গ্রামে ক্রমে প্রতিষ্ঠিত হয় বিশাল জমিদারবাড়ি ও দেবোত্তর এস্টেট ৷ এস্টেটের মধ্যে দ্বাদশ শিবমন্দির, গিরি গোবর্ধন মন্দির, রাসমন্দির, ঝুলন মন্দির ও দুর্গা মন্দির প্রতিষ্ঠা করা হয় ৷ সেই পুরনো মন্দিরগুলি থাকলেও, নিয়মিত পুজো আজ আর হয় না ৷ শ্রী শ্রী চন্ডিতে দেবীর উপর বর্নিত রয়েছে সেই রূপ এই বাড়ির পুজোতে হয় তার কারণ এখানে দেবী চন্ডিধরি। বন্দোপাধ্যায় দের বাড়ির দেবীর দুর্গার মুখ ছাঁচের পরিবর্তে হাতে করে তৈরি করা হয়। একই পরিবার প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মূর্তি প্রস্তুত করে আসছি।
Truth of Bengal fb page: https://www.facebook.com/share/1GbdnH1jqc/
নীলকর সাহেবদের কাছ থেকে প্রাপ্ত সম্পত্তি পেয়ে এই বিশাল জমিদারি গড়ে উঠলেও। নীলকর সাহেবদের থেকে এই বন্দ্যোপাধ্যায়রা ছিলেন সম্পূর্ণ আলাদা। কারণ যেখানে সেই সময় সারা বাংলা জুড়ে চলছিল নীলকর সাহেবদের আগ্রাসন জোর করে চাষীদের করানো হতো নীল চাষ। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে বন্দোপাধ্যায় পরিবারের পূর্বপুরুষরা চাষীদের কখনো জোর করে নীল চাষ করতে বাধ্য করায়নি। আর জোর করে স্থানীয় চাষীদের নীল চাষ করাতে বাধ্য করা হতো না বলেই বন্দ্যোপাধ্যায় জমিদাররা ছিলেন স্থানীয় কৃষকদের কাছে ভগবানের মতো। এলাকার যাবতীয় মানুষ তাদের সমস্যা নিয়ে বিহিত পাওয়ার অপেক্ষায় ছুটে আসতেন এই এসটেটে। ন্যায্য বিহিত পেতেন সকলেই।বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের রেখে যাওয়া এস্টেট সযত্নে বহন করে নিয়ে চলেছেন তাদের পরিবারের যোগ্য উত্তরসূরিরা।মধ্যসত্ত্বা তাদের জমিদারত্বকে হারিয়ে দিলেও বনেদি আনাকে হারিয়ে ফেলতে পারেনি (Ayodhya Estate Durga Puja)।
বন্দোপাধ্যায় পরিবারের বর্তমান প্রজন্ম সুমন্ত বন্দোপাধ্যায় জানাচ্ছেন, বর্তমানে আর্থিক স্বচ্ছলতা নেই ঠিকই তবে রীতি মেনেই পূজিতা হন তাদের মা। এই পুজোকে কেন্দ্র করে পরিবারের সকলে রুজির টানে যারা বাইরে থাকেন তারা সকলেই সমবেত হয়। পুজো কটা দিন পরিবারের সকল সদস্য মিলে খুব মজা হয়। ইতিহাসের অভিযোজন হয়না তা দাঁড়িয়ে থাকে একই জায়গায় তা যেন জানান দিল বাঁকুড়ার অযোধ্যার দেবত্তর এস্টেট।






