Student Mental Health: প্রতি ঘণ্টায় একজন ছাত্রের আত্মহত্যা, কেন বাড়ছে অবসাদ?
বিপ্লব চৌধুরী: সদ্য অঙ্কুরিত স্বপ্নগুলি বিনষ্ট হয়ে যাওয়া খুবই মর্মবিদারী ও উদ্বেগের। ২০২২ সালের তথ্য অনুযায়ী মানসিক সমস্যা, অতিরিক্ত পড়াশোনার চাপের কারণে ভারতে ১.৭১লক্ষ স্কুল ছাত্রের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে যায় এনসিআরবি-র তথ্যে যখন প্রতি ঘণ্টায় ভারতে একটি ছাত্র আত্মহননের পথ বেছে নেয়। এমতাবস্থায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় আগেই দরকার প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া। আর এই দায়িত্ব বর্তায় সরকারের ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির ওপর। ২০১৯ সালের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-র প্রকাশ করা তথ্য অনুযায়ী ৩০-৫০শতাংশ ভারতীয় স্কুল শিক্ষার্থী মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত। আইসিএমআর (২০১৯)-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি পাঁচ জনের মধ্যে একজন শিক্ষার্থী মানসিক অবসাদের শিকার। এছাড়াও আমাদের দেশে ৬২শতাংশ শিক্ষার্থী মানসিক চাপে, ৫৫শতাংশ উদ্বেগজনিত কারণে, ৪৫শতাংশ মানসিক অবসাদের সমস্যায় আক্রান্ত (Student Mental Health)।
আরও পড়ুনঃ ED Raids: বালি পাচার কাণ্ডের তদন্তে একযোগে ইডি-র তল্লাশি
আর অন্যদিকে হু-এর রিপোর্ট বলছে সারা দেশে কেবল মাত্র ১০-২০শতাংশ শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেওয়া হয়। সুতরাং, এই বিষয়টি থেকে দৃষ্টি ঘুরিয়ে রাখা যায় না আর। এখনই এর প্রতিকারের উদ্যোগে জরুরি। কিছু বেসরকারি দামি স্কুলে যদিও মনস্তাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞদের সাহায্যে ছাত্র-ছাত্রীদের কাউন্সেলিং করানো হলেও বেশিরভাগ স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য উপেক্ষিত থেকে যায়। আর সরকারি বিদ্যালয়ে এই বিষয়ে কোনওরূপ গুরুত্ব দেওয়া হয় না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা বিষয়ে পর্যাপ্ত গুরুত্বের অভাব ও আমাদের সমাজে মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সাধারণ ধারণা না থাকায় প্রায়শই শিক্ষার্থীরা নিঃসঙ্গতায় ভোগে। এর ফলে তাদের মানসিক স্বাস্থ্য ক্রমাগত খারাপ হতে থাকে। অত্যাধিক পড়াশোনার বোঝা, উৎকণ্ঠা, উদ্বেগ, বন্ধুত্ব স্থাপনে অক্ষমতা, পরীক্ষায় ভাল রেজাল্ট করার চাপ, বাবা-মায়ের প্রত্যাশা পূরণ না করতে পারার ব্যর্থতা শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের চরম ক্ষতি করছে (Student Mental Health)।
হু-এর নির্দেশিকা অনুযায়ী স্কুল মেন্টাল হেলথ প্রোগ্রামে (এসএমএইচপি) শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই কর্মসূচিটি চার পর্যায়ের। প্রথমত, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমানুভূতি, সৃজনশীলতা, স্বাস্থ্যকর পারস্পরিক সংবাদ ও সম্পর্ক স্থাপনে জোর দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয়ত, স্কুল শিক্ষায় মানসিক স্বাস্থ্য শিক্ষাকেও একটি বিষয় রূপে সংযুক্ত করা ও পেশাগত দক্ষতাসম্পন্ন মনস্তাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞদের দ্বারা শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ও নিরবচ্ছিন্ন সাইকোলজিক্যাল কাউন্সেলিং করার কথা বলা হয়েছে। তৃতীয়ত, যে সকল শিক্ষার্থীর মধ্যে মানসিক অসুস্থতা আছে তাদের অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া। চতুর্থত, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতির লক্ষ্যে শিক্ষার্থী, স্কুল, অভিভাবক সবাইকে যুক্ত করা এবং শিক্ষা যেহেতু যৌথ-তালিকার অন্তর্ভুক্ত তাই কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকার উভয়ের ভূমিকাই অনেক। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মানসিক সমস্যায় ভোগা শিক্ষার্থী নিজেকে গুটিয়ে নিতে শুরু করে। ফলে তার মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি আরও ঘটতে থাকে। এই জন্যই প্রয়োজন সরকার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দ্বারা নিয়মিত মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক সেমিনার ও সচেতনতা বৃদ্ধির আয়োজন করা। শিক্ষক ও শিক্ষিকাদেরও মানসিক স্বাস্থ্যের প্রশিক্ষণ জরুরি। একজন মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞ শিক্ষার্থীদের সব সমস্যা মন দিয়ে শোনেন ও তারপর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেন (Student Mental Health)।
Truth of Bengal fb page: https://www.facebook.com/truthofbengal
সাইকোলজিক্যাল কাউন্সেলিং-এর ফলে শিক্ষার্থীদের অবেগীয় বুদ্ধিমত্তা ও সহনশীলতা বৃদ্ধি পাবে। চাপ মোকাবিলা করার কৌশল তারা শিখবে। তাদের আত্মসম্মানবোধ আসবে। একজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে অপর শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং ছাত্র-শিক্ষক বন্ধন উন্নত ও সুদৃঢ় হবে। যে সকল শিক্ষার্থীরা নিজেরাও জানে না তাদের কী সমস্যা হচ্ছে, সেই বিষয়ে কথা বলতে ও মনস্তাত্ত্বিক সাহায্য চাইতে তারা কুণ্ঠাবোধ করবে না। কিছু বিশেষ আচরণগত সমস্যা যেমন এডিএইচডি, অটিজম, খুব সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব হবে এবং প্রয়োজনীয় থেরাপির ব্যবস্থা করা যাবে। স্কুল থেকেই শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। নয়তো পঠনপাঠনে অনীহা জনিত কারণে স্কুলছুটের সংখ্যা কমবে না। সেই সঙ্গে আগামী দিনে দুর্বল মানসিক স্বাস্থ্যের কারণে অপরাধমূলক কাজ করার প্রবণতাও হ্রাস পাবে না। অতএব শিক্ষার্থীদের মধ্যে লিঙ্গ সমতা, বর্ণ সংবেদনশীলতা, অতিরিক্ত পড়াশোনার চাপ কমানো ও মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলিং-এর ব্যবস্থা করার প্রতি সরকার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির বিশেষ নজর দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা অতি আবশ্যিক। সরকারি ও বেসরকারি সব স্কুলে, কলেজে সাইকোলজিক্যাল কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে যাতে শিক্ষার্থী মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক সমস্যা মোকাবিলা করতে পারে ও তাদের পঠনপাঠন দক্ষতার বিকাশ ঘটে (Student Mental Health)।






