সম্পাদকীয়

ফুটবলই বদহজমের কারণ হল, এবার কী বলবেন মোদিজি!

আইএসএল-এর জন্য তারা নতুন ভাবে দরপত্র ছাড়ার প্রস্তাব দিয়েছে ফুটবল ফেডারেশনকে।

জয়ন্ত চক্রবর্তী (বিশিষ্ট সাংবাদিক): বড় আশা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আর তাঁর সেনাপতি অমিত শাহ বিজেপির মানসপুত্র কল্যাণ চৌবেকে ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের মাথার ওপর বসিয়েছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল ক্রিকেটে যেমন জয় শাহ ফুটবলে তেমনই হয়ে উঠবেন প্রাক্তন এই গোলকিপার (Football Crisis)। কিন্তু, মোদিজির স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে। বুধবার সুপ্রিম কোর্টে নীতা আম্বানির ফুটবল স্পোর্টস ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড ওরফে এফএসডিএল সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে ভারতীয় ফুটবলের সিগনেচার প্রতিযোগিতা ইন্ডিয়ান সুপার লিগের সঙ্গে তারা সব সংস্রব ত্যাগ করছে। তারা ঠিক করে নিয়েছে যে ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের মার্কেটিং এজেন্ট হিসেবে তারা আর থাকবে না। আইএসএল-এর জন্য তারা নতুন ভাবে দরপত্র ছাড়ার প্রস্তাব দিয়েছে ফুটবল ফেডারেশনকে।

[আরও পড়ুন: Malda: আধুনিকতার স্রোতে গ্রামের ঐতিহ্য হারানোর পথে ]

চার কিস্তিতে তারা ফুটবল ফেডারেশনকে তাদের কাছ থেকে প্রাপ্য বকেয়া টাকা মিটিয়ে দেবে। এর মধ্যে তিন কিস্তির টাকা দেওয়া হয়ে গিয়েছে। বাকি এক কিস্তির টাকাও তারা মিটিয়ে দেবে। কিন্তু কোনও ভাবেই তারা আইএসএল-এর সাংগঠনিক দায়িত্বে থাকবে না। মাস্টার রাইট এগ্রিমেন্ট করার প্রয়োজনীয়তাও তা হলে উঠছে না। ব্যাপারটা আপাত দৃষ্টিতে নির্বিষ মনে হলেও বিষয়টি সে রকম নয়। নীতা আম্বানির মালিকানাধীন এফএসডিএল প্রকারান্তরে জানিয়ে দিয়েছে যে কল্যাণ চৌবের নেতৃত্বাধীন যতদিন থাকবে ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন, ততদিন তারা এআইএফএফ-এর সঙ্গে সম্পর্ক রাখবে না। কল্যাণ চৌবে সরে গেলেই তারা দেশের ফুটবলের প্রথম টুর্নামেন্টের দায়িত্ব নেবে (Football Crisis)। এফএসডিএল আসলে কার? মোদি ঘনিষ্ঠ শিল্পপতি মুকেশ আম্বানির রিলায়েন্স গোষ্ঠীর। মোদি ঘনিষ্ঠ শিল্পপতির স্ত্রীর এই আচরণ! মোদিজির জন্যে এটা বদহজম ছাড়া আর কী বা হতে পারে!

শোনা যাচ্ছে, এআইএফএফ-এর নির্বাচনে যদি কল্যাণ চৌবে ছাড়া আর যে কেউ আসেন, তা হলে নীতা আম্বানির মালিকানাধীন এফএসডিএল দেশের ফুটবল এর যাবতীয় দায়িত্ব নেবে। কিন্তু, কল্যাণ চৌবে থাকতে নৈব নৈব চ। শেষ পর্যন্ত ফুটবল ফেডারেশনের মাথায় না আবার প্রাক্তন সভাপতি প্রফুল্ল প্যাটেলকে না দেখা যায়! প্রফুল্ল প্যাটেলের সঙ্গে রিলায়েন্স গোষ্ঠীর সম্পর্ক মধুর। প্রফুল্ল প্যাটেল ফুটবল ফেডারেশনের মাথার ওপর বসলে তা এফএসডিএল-এর পক্ষে ভাল হবে।

প্রফুল্ল প্যাটেলকে মাথায় রেখে তারা ভারতীয় ফুটবলে ছড়ি ঘোরাতে পারবে। প্রশ্ন হল, মোদিজি, অমিত শাহরা এতবড় একটা বদহজমের পর সেটা কতদূর মেনে নেবেন? সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সুপার কাপ অক্টোবরে এবং আইএসএল ডিসেম্বর– তা সে যে নামেই হোক ডিসেম্বরে করতেই হবে। এআইএফএফ-এর সংবিধান পাল্টানো সম্পর্কিত রায় সোমবার। সংবিধান একবার পাস হয়ে গেলে এআইএফএফ-এ নির্বাচন করতেই হবে। এই নির্বাচনে প্রমাণ হয়ে যাবে বদহজমের পর মোদিজিরা কতটা জমি ছাড়লেন।

কল্যাণ চৌবে গোষ্ঠী অবশ্য এখনও দিবাস্বপ্ন দেখছে যে এফএসডিএল ছাড়াই আইএসএল চলছে। প্রয়োজনে বিদেশি সংস্থাও এআইএফএফ-এর মার্কেটিং এজেন্ট হতে রাজি হচ্ছে (Football Crisis)। কল্যাণ চৌবেরা জানেন না কিংবা না জানার ভান করছেন যে মোদিজি, অমিত শাহদের টিকি বাঁধা এই আম্বানি-আদানিদের কাছে।

এত সহজে নীতা আম্বানি রণে ভঙ্গ দেবেন? সুপ্রিম কোর্টে তাঁদের পিছিয়ে আসাটা এগিয়ে আসার ছদ্মবেশ নয়তো? মোদিজি, অমিত শাহরা বিজেপির মানসপুত্র মারফত ফুটবলটা কুক্ষিগত করার যে প্রয়াস চালিয়েছিলেন তা আপাতত মার খেয়েছে। তাঁরা বুঝতে পেরেছেন কল্যাণ চৌবে আর যাই হোন তিনি জয় শাহ কোনওদিন হতে পারবেন না। ভারতীয় বোর্ডের সভাপতি আজ ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের প্রধান।

[আরও পড়ুন: Mohun Bagan: আক্রমণভাগের শক্তি বাড়াতে ব্রাজিলীয় রবসনকে দলে নিল মোহনবাগান]

কল্যাণ চৌবে কোনওদিন যে ফিফার সভাপতি হতে পারবেন না– এই সত্যটা জানার জন্যে আলাদা কোনও মস্তিষ্কের প্রয়োজন হয় না। কিন্তু এখন দেখার বিষয়, সোমবারের রায়ের পর মোদিজিরা কোন পথে হাঁটেন। বিজেপির কোনও ঘনিষ্ঠকে ফুটবল ফেডারেশনের তখত তাউসে বসান নাকি প্রফুল্ল প্যাটেলদের জমি ছেড়ে দেন। বদহজম হলেও মোদিজিরা এত সহজে রণে ভঙ্গ দেবেন বলে মনে হয় না। তা হলে এবার এআইএফএফ নির্বাচনে মোদিজির বিজেপি বনাম নীতা আম্বানির এফএসডিএল। ব্যাপারটা কেমন সেমসাইড, সেমসাইড মার্কা হয়ে যাচ্ছে না!

Related Articles