Online Hate: ট্রোলাররা অন্যদের প্রতি কেন বিদ্বেষ ছড়ায়? কী পায় অন্যদের আঘাত করে
সেই ব্যক্তির অতীতে লুকিয়ে আছে বিদ্বেষের বীজ। কীভাবে তা আগে জানুন
Truth of Bengal: নামি হোক কিংবা অনামি, সেলেব হোক কিংবা সাধারণ মানুষ, সবাই কমবেশি ট্রোলারদের হাতে বিদ্বেষের শিকার হন। কিছু মানুষ অন্যকে আঘাত করে কী পায়? এই প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে যে বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে তার মনের হদিশ পেতে হবে। সেই ব্যক্তির অতীতে লুকিয়ে আছে বিদ্বেষের বীজ। কীভাবে তা আগে জানুন (Online Hate)?
১) যে বিদ্বেষ ছড়ায় অন্যের নামে সেও অতীতে বিদ্বেষের শিকার হয়েছে, দেখা যাবে ট্রোলারদের পারিবারিক ইতিহাস ঘাঁটলে যে সে অতীতে পরিবারের মধ্যে অথবা বন্ধু পরিচিতদের দ্বারা বিদ্বেষের শিকার হয়েছে। ট্রোলিং, উত্যক্ত করা এমন পর্যায় গিয়েছিল যে সে নিজেকে অপাঙতেয়, অপ্রয়োজনীয় বলে মনে করেছিল, নগন্য ভাবতে শুরু করেছিল। মনের মধ্যে পুষে রাখা রাগ অন্যকে আঘাত করে শোধ তোলে। অন্যকে মানসিক আঘাত করে, বিদ্বেষ ছড়িয়ে মানসিক পরিতৃপ্তি লাভ করে (Online Hate)।
২) দেখা যায়, ট্রোলাররা নিজেরাই ছোটোবেলায় বিদ্বেষের শিকার হয়েছে। তারা একাকীত্বের শিকার, মানসিক ভাবে খুব একলা। চায় অন্যর মনোযোগ পেতে, সেটা না পেলেই অন্যর নামে বিদ্বেষ ছড়িয়ে, অপমান করে বিকৃত আনন্দ পায়। এতে নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ ও ক্ষমতাশালী বলে মনে করে (Online Hate)।
আরও পড়ুনঃ Indian Football: নর্থ ইস্ট ইউনাইটেড এফসির সঙ্গে রিবকের স্ট্রাটেজিক গাঁটছড়া
৩) যারা বিদ্বেষ ছড়ায় তাদের আত্মসম্মান বোধ খুব কম। ট্রোলাররা নিজেদেরকে যতই দেখাক আসলে তারা নিজেদেরকে স্মার্ট, আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব বলে মনে করে না। নিজের চেয়ে দুর্বল মানুষকে শিকার হিসাবে পেয়ে অবদমিত করার চেষ্টা করে।
৪) আসলে কেউ যদি বিদ্বেষপরায়ণ ব্যক্তির চেয়ে বেশি জনপ্রিয় হয় তাহলে তারা সহ্য করতে পারে না। আসলে আত্মসম্মান বোধ কম থাকায় অন্যকে হিংসা করে। নিজেদের ব্যর্থতা অন্যদের ওপর চাপিয়ে অদ্ভুত বিকৃত আনন্দ পায়।
৫) ট্রোলাররা আসলে খুব একা, দল বেঁধে থাকতে ভালোবাসে। এসব মানুষ মানসিক ভাবে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। একা থাকলে আত্মবিশ্বাস কমে যায়। তাই সব সময় দলবদ্ধ হয়ে থাকতে ভালোবাসে। ট্রোলারদের বন্ধু সার্কেলে যারা থাকে তারাও কোনো সময় অতীতে বিদ্বেষের শিকার হয়েছে (Online Hate)।
৬) বিদ্বেষপরায়ণ ব্যক্তিরা নিজেদের বিরাট কেউকেটা ভাবে। মনে করে, তাদের চেয়ে বেশি ক্ষমতাশালী কেউ নেই। এদের ইগো বড়ো বেশি। নিজেদের অহংকারী মনোভাবের কারণে অন্য কারোর ক্ষমতা সহ্য করতে পারে না (Online Hate)।
৭) হিংসার জন্যই অন্যকে অপমান করতে ভালোবাসে। আসলে নিজেদের চেয়ে আলাদা কারোকে এরা সহ্য করতে পারে না। এরা চায় সবাই এদের মতো ‘ঝাঁকের কই’ হয়ে বাঁচুক।
কীভাবে বিদ্বেষ ছড়ানো হয়
কটুক্তি করে, উল্টো পাল্টা কথা বলে মানসিক ভাবে অপমান করাই সবচেয়ে বড়ো বিদ্বেষ ছড়ানোর ক্ষতিকারক দিক
যাদের নামে বিদ্বেষ ছড়ানো হয় তারা মানসিক ভাবে বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে। জীবন সম্পর্কে আতঙ্কে ভুগতে শুরু করে। বেঁচে থাকার আনন্দই ভুলে যায়
ছেলে বা মেয়েদের অনেক সময় সমবয়সি বা ভিন্ন বয়সের ছেলে, মেয়েরা কটুক্তি, অপমান করে। শারীরিক বা যৌন নির্যাতন করা হয়। আসলে যারা বিদ্বেষপরায়ণ তারা আয়নার সামনে নিজের মুখোমুখি হতে ভয় পায়
গায়ের রঙ নিয়ে অপমান করা হল বিদ্বেষের সবচেয়ে কুরুচিপূর্ণ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। গায়ের রঙের পাশাপাশি জাত, ধর্ম, দেশ তুলেও বিদ্বেষ ছড়ানো হয়
Truth of Bengal fb page: https://www.facebook.com/share/193NB43TzC/
আধুনিক সময়ও অনেকে ভিন্ন চাহিদাসম্পন্ন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষকে সহ্য করতে পারে না। তাদের কটুকথা শোনানো হয়
আধুনিক সময় দাঁড়িয়ে সাইবার বুলিং বিদ্বেষ ছড়ানোর সর্বশ্রেষ্ঠ মাধ্যম হয়ে উঠেছে। অপছন্দের মানুষের অজান্তেই তার ব্যক্তিগত তথ্য ভার্চুয়াল জগতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে সামাজিক ভাবে হেয় করা হচ্ছে। যারা এসব বিদ্বেষ ছড়ায় তারা আসলে ফেসলেস। সোশ্যাল মিডিয়া আসলে আড়ালের দেওয়াল তুলে হেনস্তাকারীকে সুবিধা পাইয়ে দিচ্ছে (Online Hate)






