রাজ্যের খবর

Bankura: প্রায় ৭০ বছরের ঐতিহ্য! বিড়ি শ্রমিকদের আজও খবর পড়ে শোনান ‘খবরওয়ালা’ পশুপতি নাগ

একদিন নয়, দুদিন নয় রোজ নিয়ম করে এরমই ছবি দেখা যায় বাঁকুড়া শহরের রবীন্দ্র সরণি এলাকার কো-অপারেটিভ বিড়ি কারখানায়।

কৈলাস বিশ্বাস, বাঁকুড়াঃ মুখে মাইক্রোফোন, হাতে খবরের কাগজ। অনর্গল খবর পড়ে শোনাচ্ছেন এক ব্যক্তি। বিড়ি বাঁধতে বাঁধতে তা মন দিয়ে শুনছেন প্রায় জনা ষাটেক শ্রমিক। একদিন নয়, দুদিন নয় রোজ নিয়ম করে এরমই ছবি দেখা যায় বাঁকুড়া শহরের রবীন্দ্র সরণি এলাকার কো-অপারেটিভ বিড়ি কারখানায়। শুনলে হয়তো অবাক হবেন এই রেওয়াজ চলে আসছে কমবেশি প্রায় ৭০ বছর ধরে।( Bankura)

বাংলায় তখন একচ্ছত্র অধিপত্য বিস্তার করছে ব্রিটিশ সরকার সেই সময় গড়াপত্তন হয় এই বিড়ি কারখানার।পরবর্তীতে অর্থাৎ ১৯৫৬ সালে এই বিড়ি কারখানার নাম পাল্টে রাখা হয় বাঁকুড়া বিড়ি শিল্পী কো-অপারেটিভ সোসাইটি। যখন ব্রিটিশ সরকার ভারতবর্ষ থেকে চলে যাবার পর ভারতের স্বাধীন সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়। সেই সময় শ্রমিকদের মধ্যে দেশ-বিদেশের খবর জানার একটা প্রবল আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়। তাই শ্রমিকদের কাজের মাঝেই খবরের কাগজ তাদেরকে পড়ে শোনানোর বন্দোবস্ত করা হয়। প্রথমে কারখানারই এক প্রবীণ শিল্পী এই কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে তার মৃত্যুর পর কিছু দিন থেমে থাকে এই কাজ। শুরু হয় নতুন খবর পড়ার লোকের খোঁজ।অনেক খোঁজাখুঁজির পর সেই গুরুদায়িত্ব এসে পড়ে ওই রবীন্দ্র সরণীর বাসিন্দা পশুপতি নাগের ওপর। সালটা ছিল ১৯৮২ সেই সময় পশুপতি বাবু ছিলেন কিশোর তখন থেকেই শুরু হয় তার এই কাজ। আজ ২০২৫-এ দাঁড়িয়েও এই কাজ করে চলেছেন পশুপতি নাগ।(Bankura)

[আরও পড়ুনঃ Bankura: প্রায় ৭০ বছরের ঐতিহ্য! বিড়ি শ্রমিকদের আজও খবর পড়ে শোনান ‘খবরওয়ালা’ পশুপতি নাগ]

আজও ৩৬৫ দিন দুপুর একটা বাজলেই মুখে মাইক্রোফোন হাতে পেপার নিয়ে শুরু হয় পেপার পড়ার কাজ। তা গুরুত্ব সহকারে মনোযোগ দিয়ে শোনেন কর্তব্যরত বিড়ি শ্রমিকেরা। ১৯৮২ কিশোর পশুপতি এখন ষাটোর্ধ প্রবীণ। ৪৩ বছর ধরে এই কাজে ব্রতী। অনেকে তাকে ভালোবেসে ডাকেন ‘খবরওয়ালা’ বলে।

[লিঙ্কঃ https://www.facebook.com/truthofbengal]

পেশায় গৃহ শিক্ষক পশুপতি নাগ নিজে সংসার করেননি। বাড়িতে রয়েছেন বৃদ্ধা মা ও অবিবাহিতা দুই বোন। গৃহ শিক্ষকতা করেই জীবিকা নির্বাহ করেন পশুপতি বাবু। সাথে এক ঘন্টা ধরে শ্রমিকদের জন্য পেপার পড়ার কাজ। পারিশ্রমিকের ব্যাপারে পশুপতি বাবুর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান খবর পড়া শেষ হলেই প্রত্যেকটি শ্রমিক তার হাতে ‘সাতটি’ করে বিড়ি তুলে দেন।সেই বিড়ি সেই কারখানাতে বিক্রি করেই ১০০ টাকার মতো পান ওটাই ওনার পারিশ্রমিক।( Bankura)

কারখানা শ্রমিকেরা বলেন আমাদের এই কাজের ফাঁকে খবরের চ্যানেল বা পেপার পড়ার সুযোগ পায় না। পশুপতি দা রোজ এসে আমাদের খবর পড়ে শোনাই আমরা দেশ দুনিয়ার খবর জানতে পারি।এতে তাঁরা উপকৃত হয়। যতদিন দেহে প্রাণ থাকবে ততদিন তিনি এই কাজ করে যাবেন বলে জানালেন পশুপতি বাবু।

Related Articles