দেশ

অবশেষে পুলিশের জালে পুনে ধর্ষণকাণ্ডের অভিযুক্ত, কঠোর শাস্তির দাবি

Pune rape case accused finally caught by police, demand strict punishment

Truth Of Bengal: পুনেতে গণপরিবহনের একটি ফাঁকা বাসে ধর্ষণের ঘটনা চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল গোটা মহারাষ্ট্র জুড়ে। অবশেষে, লাগাতার তল্লাশির পর শুক্রবার ভোররাতে পুনের শিরুর এলাকা থেকে অভিযুক্ত দত্তাত্রেয় রামদাস গোডেকে গ্রেফতার করল পুলিশ। তার বিরুদ্ধে আগেও একাধিক অপরাধের অভিযোগ ছিল।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার ভোররাতে পুনের একটি বাস ডিপোতে ২০ বছর বয়সী এক তরুণী ধর্ষণের শিকার হন। ওই তরুণী সাতারায় নিজের বাড়ি ফেরার জন্য বাস ধরতে গিয়েছিলেন ডিপোতে। তখনই সেখানকার এক ব্যক্তি, যাকে পরে দত্তাত্রেয় রামদাস গোডে বলে চিহ্নিত করা হয়, তাকে বিভ্রান্ত করে ভুল বাসের দিকে পাঠিয়ে দেয়।

তরুণী যখন বাসে ওঠেন, তখন সেটি পুরোপুরি ফাঁকা ছিল। ঠিক সেই সুযোগ নিয়েই অভিযুক্ত বাসের ভেতরে তাকে নির্মমভাবে ধর্ষণ করে। এরপর দ্রুত পালিয়ে যায় সে, যাতে কেউ তাকে শনাক্ত করতে না পারে।

এই ঘটনার পর পুনে পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে। একাধিক সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে তারা নিশ্চিত হয় যে অভিযুক্ত দত্তাত্রেয় রামদাস গোডে। তাকে ধরতে তল্লাশি শুরু হয়, এবং তার খোঁজ দিতে পারলে এক লক্ষ টাকা পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়।

পুলিশের অনুমান ছিল যে, সে তার নিজের গ্রামের এক বিশাল আখের ক্ষেতে লুকিয়ে আছে। সেই সূত্র ধরেই বৃহস্পতিবার বিকেলে বিশাল আখক্ষেতে অভিযান চালানো হয়। পুলিশের সঙ্গে ছিল স্নিফার ডগ ও ড্রোন, যাতে দ্রুত তাকে খুঁজে বের করা যায়।

পুলিশ জানিয়েছে, দত্তাত্রেয় রামদাস গোডের বিরুদ্ধে অন্তত ছয়টি মামলা আগেও ছিল। পুনে ও আহমেদনগর এলাকায় চুরি, ছিনতাই-সহ একাধিক অপরাধে জড়িত ছিল সে। এমনকি, আগেও মহিলাদের হেনস্থার অভিযোগ উঠেছিল তার বিরুদ্ধে। কিন্তু এতদিন পর্যন্ত সে পুলিশের চোখ এড়িয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল।

এই ঘটনায় গোটা রাজ্যে নিন্দার ঝড় উঠেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছে। মহারাষ্ট্রের ডেপুটি মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার সাফ জানিয়েছেন, “এ ধরনের অপরাধীদের জন্য একমাত্র শাস্তি হওয়া উচিত মৃত্যুদণ্ড। আমরা আদালতে সর্বোচ্চ শাস্তির জন্য লড়াই করব।”

এছাড়াও, পুনের বিভিন্ন মানবাধিকার ও মহিলা সংগঠন এই ঘটনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে দোষীর কঠোরতম শাস্তির দাবি তুলেছে। পুলিশের তরফ থেকেও জানানো হয়েছে, দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলেছে গণপরিবহনে নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা শুরু হয়েছে। যদিও পুলিশ জানিয়েছে, তারা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এই মামলার তদন্ত চালাবে এবং দ্রুত দোষীর শাস্তির ব্যবস্থা করবে।

Related Articles