সম্পাদকীয়

কেন এত বিহার-ইউপি যোগ? নেপথ্যে উদ্দেশ্য কী

Why so much Bihar-UP yoga? What is the motive behind it?

Truth Of Bengal: সাম্প্রতিক কালে নানা জায়গায় দেখা গিয়েছে বেআইনি অস্ত্রের রমরমা। প্রকাশ্যে কয়েকটি খুন ও খুনের চেষ্টায় দেখা গিয়েছে সেই বেআইনি আগেয়াস্ত্রের ব্যবহার। রাজ্যের শাসক দলের তরফে বলা হয়েছে ভিনরাজ্য থেকে এই সব আগ্নেয়াস্ত্র এনে বাংলাকে অশান্ত করার চেষ্টা হচ্ছে। এই অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় বারবার বিহার ও উত্তর প্রদেশের নাম উঠে এসেছে। সেখানে অস্ত্র নিয়ে এসে ও দুষ্কৃতীরা এই রাজ্যে নানা অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ছে। প্রায় প্রতিটি ঘটনায় দেখা গিয়েছে ধরা পড়া দুষ্কৃতীদের সঙ্গে বিহার ও উত্তরপ্রদেশের সংযোগ আছে। আবার সেই সব অস্ত্র আনা হচ্ছে বিহার থেকে। শিয়ালদার মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গা থেকে এবার অস্ত্র উদ্ধার হল।

সোমবার রাতে শিয়ালদার সুরেন্দ্রনাথ কলেজের কাছে বৈঠকখানা রোডের একটি বাড়িতে অভিযান চালায় কলকাতা পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স। সেখানে মেলে অস্ত্রের হদিশ। সেখান থেকে থেকে একটি সেভেন এমএম সেমি অটোমেটিক এবং একটি সিঙ্গল শটার আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে এসটিএফ। গ্রেফতার করা হয়েছে ৫ জনকে। ধৃতরা প্রত্যেকেই উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা। ধৃতদের নাম শিবশঙ্কর যাদব, রাহুল যাদব, আদিত্য মৌর্য, দেবাঙ্ক গুপ্তা এবং রুকেশ সাহানি। সকলেরই বয়স ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। প্রত্যেকেই উচ্চশিক্ষিত। ধৃতদের মধ্যে কেউ বিটেক, কারও আছে বাণিজ্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি। রয়েছে কলা বিভাগে স্নাতক, বিজ্ঞানে স্নাতক এবং আইটিআই ডিগ্রিধারীও।

অভিযুক্তরা কী কারণে কলকাতার বৈঠকখানা লেনের ওই জায়গাতেই আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হাজির হল তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। অভিযুক্তদের কি ডাকাতের উদ্দেশ্য ছিল, নাকি শুধুমাত্র বাইরের রাজ্য থেকে কলকাতায় এসে অস্ত্র সরবরাহেই তাদের উদ্দেশ্য ছিল? রাজ্যের শাসক দলের তরফে বারবার বলা হয়েছে, বাংলাকে অশান্ত করার জন্য পরিকল্পিত ভাবে বাইরে থেকে বিশেষ করে বিহার ও উত্তরপ্রদেশ থেকে আসছে দুষ্কৃতীরা। এটা যদি সত্যিই হয় তা হলে তাতে লাগাম টানা দরকার। সেক্ষেত্রে আরও কড়া হতে হবে পুলিশকে। যে বা যারা যে উদ্দেশ্য নিয়ে এই ভাবে বাংলাকে অশান্ত করার চেষ্টা করুক না কেন তা প্রতিহত করতে হবে। সেখানে সাধারণ মানুষের ভূমিকাও থাকছে অনেকটাই।

Related Articles