রাজ্যের খবর

মাত্র ৬ ঘণ্টাতেই কলকাতা থেকে বারাণসী! পুরুলিয়া-বাঁকুড়া হয়ে তৈরি হচ্ছে ৬ লেনের এক্সপ্রেসওয়ে

১২ ঘণ্টার সফর এবার নিমেষেই! ৪ রাজ্য জুড়ে তৈরি হচ্ছে ৬১০ কিমির গ্রিনফিল্ড এক্সপ্রেসওয়ে

Truth of Bengal: সপ্তাহান্তে আচমকা বারাণসী ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যান করেছেন, কিন্তু ট্রেনের কনফার্ম টিকিট না পেয়ে মন খারাপ? এবার সেই সমস্ত সমস্যার চিরতরে অবসান হতে চলেছে। ট্রেনের অপেক্ষায় দিন গোনা কিংবা টিকিটের ঝক্কি পোহানোর দিন শেষ। খুব শীঘ্রই নিজস্ব গাড়ি বা বাসে চেপে সড়কপথেই কলকাতা থেকে মাত্র ৬ ঘণ্টায় পৌঁছে যাওয়া যাবে বাবা বিশ্বনাথের ধাম বারাণসীতে। যাত্রী ও পণ্য পরিবহণে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে ২০২৮ সালের মার্চ মাসের মধ্যে তৈরি হতে চলেছে বহুল প্রতীক্ষিত ‘বারাণসী-কলকাতা গ্রিনফিল্ড এক্সপ্রেসওয়ে’।

ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (NHAI)-র তৈরি এই ৬ লেনের আধুনিকতম এক্সপ্রেসওয়েটির মোট দৈর্ঘ্য হবে ৬১০ কিলোমিটার। বর্তমানে সড়কপথে কলকাতা থেকে বারাণসী পৌঁছাতে প্রায় ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা সময় লাগে। কিন্তু এই হাই-স্পিড গ্রিনফিল্ড এক্সপ্রেসওয়ে চালু হয়ে গেলে সেই যাত্রার সময় এক ধাক্কায় কমে দাঁড়াবে মাত্র ৬ ঘণ্টায়।

এই আধুনিক করিডরটি মূলত চার রাজ্য, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড এবং পশ্চিমবঙ্গকে সরাসরি একই সূত্রে বেঁধে ফেলবে। প্রকল্পের ভৌগোলিক নকশা অনুযায়ী, এক্সপ্রেসওয়েটি উত্তরপ্রদেশের ২২ কিলোমিটার, বিহারের ১৫৯ কিলোমিটার, ঝাড়খণ্ডের ১৮৭ কিলোমিটার এবং পশ্চিমবঙ্গের ২৪২ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত থাকবে। পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, খানাকুল, আরামবাগ, আমতা ও বাগনানের ওপর দিয়ে যাবে এই মেগা সড়কটি। উত্তরপ্রদেশের চন্দৌলি জেলার বারহুলি গ্রাম সংলগ্ন বারাণসী রিং রোড থেকে যাত্রা শুরু করে এটি পশ্চিমবঙ্গের উলুবেড়িয়ার কাছে ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কে এসে মিশবে। যাত্রাপথে বিহারের কাইমূল, রোহতাস, ঔরঙ্গাবাদ, গয়া এবং ঝাড়খণ্ডের ছাতরা, হাজারিবাগ, রামগড় ও বোকারোর মতো গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলিকে স্পর্শ করবে এই রাস্তা।

এই এক্সপ্রেসওয়ে কেবল পর্যটকদের সুবিধাই জোগাবে না, বরং রাজ্যের অর্থনৈতিক চিত্রও বদলে দেবে। মহাসড়কের দুধারে একাধিক শিল্পাঞ্চল ও বাণিজ্য কেন্দ্র গড়ে উঠবে, যার ফলে বহু মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। ইতিমধ্যেই উত্তরপ্রদেশ অংশে নির্মাণকাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। ঝাড়খণ্ডের জঙ্গল ঘেরা অংশের জন্য বনদপ্তরের প্রয়োজনীয় ছাড়পত্রও মিলেছে। ২০২৮ সালের মার্চ মাসের লক্ষ্যমাত্রাকে সামনে রেখে দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে কাজ।

Related Articles