মরা নয় জীবিত মানুষকে ভয় পান, বাংলার একমাত্র মহিলা ডোম পুরন্দরপুরের টুম্পার জীবনসংগ্রাম
প্রতিদিন সকাল আটটায় কাজে যোগ দেন, সারা দিনের একমাত্র কর্মী তিনি।
Truth Of Bengal: বারুইপুরের পুরন্দরপুরের টুম্পা দাসের জীবনকাহিনী ঠিক এমনই। পশ্চিমবঙ্গের একমাত্র মহিলা ডোম (Female Cremator) এবং সারা দেশে মাত্র দ্বিতীয় এই পরিচিতিটাই তাঁকে আলাদা করে চেনায়।
২০১৪ সাল। সদ্য মাধ্যমিক পাস করে নার্সিং ট্রেনিং শেষে একটি স্বল্প বেতনের চাকরি পেয়েছিলেন টুম্পা। বাবার আয়ে সংসার চলত না, তাই ভাইবোনের পড়াশোনার দায়িত্বও তাঁর কাঁধে ছিল। সবকিছু ধীরে ধীরে এগোচ্ছিল, হঠাৎই বাবার মৃত্যু। সংসারের খরচ, ভাইবোনের পড়াশোনা সবই তখন টুম্পার ওপর এসে পড়ে। নার্সিং চাকরির আয় ছেড়ে বাবার পেশা, অর্থাৎ ডোমের কাজ হাতে তুলে নিলেন তিনি।
শ্মশানের পাশেই তাঁর বাড়ি। প্রতিদিন সকাল আটটায় কাজে যোগ দেন, সারা দিনের একমাত্র কর্মী তিনি। মৃতদেহ এলে নথিভুক্ত করা থেকে শুরু করে চুল্লিতে দাহ সবই করেন একা হাতে (Female Cremator)। প্রথমে কাঠের চুল্লি, পরে ২০১৯ সাল থেকে ইলেকট্রিক চুল্লির দায়িত্বও নেন। দিনে ১২-১৪ ঘণ্টা কাজ করেন, কখনও নাইট শিফটেও ডাক পড়ে।
এই কাজ তাঁকে পরিচিতি দিয়েছে, কিন্তু সঙ্গে এসেছে সমাজের বাঁকা দৃষ্টি। অনেকেই এখনও মেনে নিতে পারেন না, একজন তরুণী শ্মশানে কাজ করছেন। তবে টুম্পা এসব নিয়ে ভাবেন না। তাঁর নিজের ভাষায়, “মরা মানুষের থেকেও জীবিত মানুষকেই ভয় পাই।”
বর্তমানে তাঁর বয়স ২৯। মাসিক বেতন মাত্র পাঁচ হাজার টাকা, মাঝে মাঝে মৃতের পরিবার থেকে কিছু বকশিস মেলে। বিয়ের জন্য পাত্র দেখলেও, এই পেশার কারণে অনেকেই সরে গেছেন। টুম্পার জেদ, “যে আমার পেশাকে সম্মান করবে, ভালবাসবে, তাকেই আমি বিয়ে করব। পরিচিতি বিসর্জন দেব না।”
বারাণসীর মণিকর্ণিকা ঘাটের যমুনা দেবীর পর টুম্পাই দেশের দ্বিতীয় মহিলা ডোম (Female Cremator)। সমাজের আড়ালে থেকেও তিনি প্রমাণ করেছেন, নারীরা শুধু সংসারই নয়, বাইরের কঠিন কাজেও সমান দক্ষ। পুরন্দরপুরের টুম্পা দাস সেই সাহস ও দৃঢ়তারই প্রতীক।






