২৯৪ থেকে কি বাড়বে আসন? বিধানসভায় ‘ডিলিমিটেশন’ ইঙ্গিত শুভেন্দুর, নজরে সেই ‘অসম মডেল’
বাংলায় কি এবার ‘অসম মডেল’? আসন পুনর্বিন্যাসের চাঞ্চল্যকর ইঙ্গিত দিলেন শুভেন্দু অধিকারী
Truth of Bengal: বিধানসভায় স্পিকার নির্বাচনের প্রথম দিনেই এক নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের সূত্রপাত করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি ভবিষ্যতে বিধানসভার আসন পুনর্বিন্যাসের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ডিলিমিটেশন হয়ে গেলে আসন সংখ্যা অনেক বেড়ে যেতে পারে, আর তার জন্য বিধানসভার বর্তমান ঐতিহাসিক ভবনটি সংস্কার বা প্রয়োজনে নতুন ভবন তৈরি করতে হতে পারে।
কেন তাৎপর্যপূর্ণ এই ঘোষণা?
কেন্দ্রীয় স্তরে ডিলিমিটেশন বিল নিয়ে টানাপোড়েন থাকলেও, বিধানসভার ক্ষেত্রে আসন পুনর্বিন্যাসের প্রক্রিয়া কিছুটা আলাদা। রাষ্ট্রপতির অনুমতি নিয়ে কমিশন গঠন করে এই কাজ করতে পারে রাজ্য সরকার। বর্তমানে শুভেন্দু সরকারের হাতে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় এই বিল পাশ করানোয় কোনো বাধা নেই। মুখ্যমন্ত্রীর মুখে এই প্রসঙ্গের উল্লেখ বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, নতুন সরকার অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে রাজ্যের নির্বাচনী মানচিত্র বদলে দিতে চাইছে।
অসম মডেলের ছায়া বাংলায়?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বড় অংশ মনে করছেন, শুভেন্দু অধিকারী আসলে ২০২৩ সালে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার দেখানো পথেই হাঁটতে চাইছেন। অসমে আসন পুনর্বিন্যাসের ফলে সংখ্যালঘু প্রধান আসনগুলির সংখ্যা ৩৫ থেকে কমে ২২-এ দাঁড়িয়েছে, যার সুবিধা সরাসরি পেয়েছে বিজেপি। বাংলায়ও কি উত্তরবঙ্গ বা পশ্চিমাঞ্চলের মতো গেরুয়া ঘাঁটিতে আসন সংখ্যা বাড়িয়ে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত মালদহ, মুর্শিদাবাদ বা দুই চব্বিশ পরগনার প্রভাব কমানোর চেষ্টা হবে? এই প্রশ্নই এখন ঘোরাফেরা করছে রাজ্যের রাজনীতির অন্দরে।
নতুন ভবন ও সংস্কার
শুভেন্দু অধিকারী এদিন বলেন, “আগামী দিনে অনেক সংস্কারের প্রয়োজন আছে। ডিলিমিটেশন হয়ে গেলে হয়তো আসন সংখ্যা অনেক বেড়ে যাবে। সেক্ষেত্রে আমাদের নতুন ভবন তৈরি করার দরকার পড়তে পারে।” স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বোসের নেতৃত্বেই এই পরিকাঠামোগত পরিবর্তনের কথা ভাবছে সরকার। বিরোধীরা অবশ্য এই ‘ডিলিমিটেশন’ তত্ত্বকে রাজনৈতিক অভিসন্ধি বলেই মনে করছেন।
লোকসভা ভোটের আগে ডিলিমিটেশন নিয়ে কেন্দ্রের চেষ্টা সফল না হলেও, শুভেন্দু সরকার বাংলায় নিজেদের ‘সংকল্প’ পূরণে এই পথে কতটা দ্রুত এগোয়, এখন সেটাই দেখার।






