“আনুগত্যের চরম পুরস্কার পেলাম!”, লোকসভায় দলীয় পদ হারিয়ে বিস্ফোরক কাকলি
মমতার ৪ দশকের সঙ্গীর ‘বিদ্রোহ’! মুখ্য সচেতকের পদ খোয়াতেই বিস্ফোরক বারাসতের সাংসদ
Truth of Bengal: ২৬-এর নির্বাচনে ভরাডুবির পর তৃণমূলের অন্দরের গৃহযুদ্ধ এবার প্রকাশ্যে চলে এল। লোকসভায় দলের মুখ্য সচেতক (Chief Whip) পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে গর্জে উঠলেন বারাসতের প্রবীণ সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। বৃহস্পতিবার কালীঘাটে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে হওয়া অভ্যন্তরীণ বৈঠকে কাকলিকে সরিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে সেই পদে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আর এই খবরের পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে পড়লেন কাকলি।
৪ দশকের লড়াইয়ের ‘পুরস্কার’
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে নিজের দীর্ঘ সংগ্রামের কথা মনে করিয়ে দিয়ে ফেসবুকে কাকলি লিখেছেন, “‘৭৬ থেকে পরিচয়, ‘৮৪ থেকে পথ চলা শুরু। ৪ দশকের আনুগত্যের জন্য আজ পুরস্কৃত হলাম।” কোনও নির্দিষ্ট পদের কথা উল্লেখ না করলেও তাঁর এই ‘পুরস্কার’ শব্দের কটাক্ষ যে সরাসরি দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে, তা বুঝতে কারও বাকি নেই। কয়েকদিন আগেই কাকলির ছেলে বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদারও দলের ‘নিষ্ক্রিয়তা’ নিয়ে তোপ দেগেছিলেন। এবার খোদ চারবারের সাংসদের এই পোস্ট তৃণমূলের অস্বস্তি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল।
উত্তর ২৪ পরগনায় ভরাডুবি ও কোপ
রাজনৈতিক মহলের মতে, উত্তর ২৪ পরগনার মতো শক্ত ঘাঁটিতে তৃণমূলের লজ্জাজনক ফলের জেরেই কাকলির ওপর কোপ পড়েছে। জেলার ৩৩টি বিধানসভা আসনের মধ্যে মাত্র ৯টি জিততে পেরেছে তৃণমূল। বারাসত লোকসভা এলাকার অন্তর্গত বেশিরভাগ বিধানসভাতেই ফুটেছে পদ্ম। দলের একাংশের অভিযোগ, বারাসতের সাংসদ সাংগঠনিকভাবে কর্মীদের সক্রিয় করতে ব্যর্থ হয়েছেন। আর সেই দায় চাপিয়েই তাঁর ডানা ছাঁটা হলো বলে মনে করা হচ্ছে।
ফিরলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়
কাকলিকে সরিয়ে এখন দলের অভিজ্ঞ মুখ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে লোকসভায় মুখ্য সচেতকের পদে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। দলের দুর্দিনে কল্যাণের মতো লড়াকু নেতাকেই ভরসা করছেন মমতা। তবে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের এই ফেসবুক পোস্ট ঘিরে দানা বাঁধছে নতুন জল্পনা। ৪ দশকের সম্পর্ক ছিন্ন করে তিনি কি অন্য কোনও পথ বেছে নেবেন? উত্তর ২৪ পরগনার রাজনীতিতে এখন এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে।

