রাজ্যের খবর

যেখানে-সেখানে আর মদের দোকান নয়! বাজেটে আবগারি নীতি নিয়ে ঐতিহাসিক ঘোষণা

এতদিন ধরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে যত্রতত্র মদের দোকান খোলা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভ ও বিক্ষোভ লেগেই থাকত।

Truth of Bengal: রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সামাজিক পরিবেশের মানোন্নয়ন এবং সুরক্ষার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দায়িত্ব নেওয়ার পরেই তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, যেখানে-সেখানে মদের দোকান খোলার অনুমতি দেওয়া যাবে না এবং নতুন লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে কড়া নজরদারি চালাতে হবে। মুখ্যমন্ত্রীর সেই কড়া অবস্থানকে মান্যতা দিয়েই রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে মদের দোকানের লাইসেন্স ও অবস্থান সংক্রান্ত এক ঐতিহাসিক ও কঠোর নীতি ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত।

এতদিন ধরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে যত্রতত্র মদের দোকান খোলা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভ ও বিক্ষোভ লেগেই থাকত। জনবহুল রাস্তার ওপর মদের দোকান থাকায় সুরাপ্রেমীদের দীর্ঘ লাইনের জেরে সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম অসুবিধা হতো। পাশাপাশি স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল কিংবা মন্দির-সহ বিভিন্ন ধর্মীয় স্থানের পবিত্রতা এবং নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার অভিযোগ উঠত অহরহ। অনেক জায়গায় বেআইনি বা লাইসেন্সবিহীন দোকানের দাপটে এলাকার সুস্থ পরিবেশ নষ্ট হচ্ছিল। এই সমস্ত গণ-অভিযোগের স্থায়ী নিষ্পত্তি করতেই এবার নড়েচড়ে বসেছে নয়া সরকার। মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন, “আমরা বলেছি, স্কুল-কলেজ বা মন্দিরের এক কিলোমিটারের মধ্যে মদের দোকানের লাইসেন্স দেওয়া যাবে না। এই সরকার অন্যভাবে চলবে।”

সোমবার বিধানসভায় পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করার সময় অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত এই সংক্রান্ত নতুন নিয়মাবলী জনসমক্ষে আনেন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে রাজ্যের যেকোনো প্রান্তেই কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল এবং ধর্মীয় বা পবিত্র স্থানের ১ কিলোমিটারের মধ্যে নতুন কোনো মদের দোকানের লাইসেন্স ইস্যু করা হবে না। তবে কলকাতা পৌরসভা (KMC) এলাকার ঘন জনবসতির কথা মাথায় রেখে এই দূরত্বের পরিমাপ ন্যূনতম ৫০০ মিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ, এই নির্দিষ্ট সীমানার বাইরে গিয়েই একমাত্র আইনসম্মত শর্ত মেনে মদের দোকান খোলার লাইসেন্স মিলবে।

নতুন সরকারের এই কঠোর ও যুগান্তকারী সিদ্ধান্তকে একযোগে স্বাগত জানিয়েছে রাজ্যের নাগরিক মহল। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, শিক্ষাঙ্গন ও ধর্মীয় স্থানগুলিকে মদের দোকানের কুপ্রভাব থেকে দূরে রাখার এই সরকারি প্রয়াস অত্যন্ত প্রশংসনীয়। নয়া এই আবগারি নীতি কড়াকড়িভাবে কার্যকর হলে রাজ্যের মফস্বল থেকে শুরু করে খোদ কলকাতার বুকেও সামাজিক ও স্থানীয় পরিবেশের অভূতপূর্ব উন্নতি ঘটবে বলে আশাবাদী সাধারণ মানুষ।

Related Articles