রাজ্যের খবর

এসআইআর-এ তথ্যগত অসঙ্গতির তালিকা প্রকাশের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

শুনানিতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নথি নিলে ভোটারকে লিখিতভাবে নথি প্রাপ্তির স্বীকৃতি দিতে হবে।

Truth Of Bengal: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় তথাকথিত তথ্যগত অসঙ্গতি বা লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি-র সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশ্যে আনতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। রাজ্যের সর্বত্র সেই তালিকা টাঙিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে শুনানির সময় ভোটারদের কাছ থেকে কোনও নথি গ্রহণ করা হলে তার লিখিত রসিদ দেওয়াও বাধ্যতামূলক বলে জানিয়েছে শীর্ষ আদালত। সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি হয়। আদালত জানিয়েছে, রাজ্যের সমস্ত গ্রাম পঞ্চায়েত দফতর, ব্লক অফিস এবং ওয়ার্ড অফিসে তথ্যগত অসঙ্গতির তালিকা টাঙাতে হবে।

শুনানিতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নথি নিলে ভোটারকে লিখিতভাবে নথি প্রাপ্তির স্বীকৃতি দিতে হবে। পাশাপাশি পুরো প্রক্রিয়ায় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে রাজ্য সরকারকে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। তথ্যগত অসঙ্গতির কারণে ১.৩৬ কোটি ভোটারকে চিহ্নিত করা হয়েছে। পরে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ১ কোটির দোড়গোড়ায়। এই তালিকা ধরেই ভোটারদের শুনানির নোটিস পাঠানো হচ্ছিল। তৃণমূল কংগ্রেস-সহ একাধিক রাজনৈতিক দল এই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং তালিকা প্রকাশের দাবি জানায়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও কোন যুক্তিতে ভোটারদের শুনানিতে ডাকা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।

আদালত আরও জানিয়েছে, এসআইআর প্রক্রিয়ার জন্য রাজ্য সরকারকে পর্যাপ্ত কর্মী দিতে হবে। পঞ্চায়েত ভবন ও ব্লক অফিসে বসে তাঁরা ভোটারদের বক্তব্য শুনবেন। প্রত্যেক জেলার জেলাশাসককে এই নির্দেশ কঠোরভাবে মানতে হবে। কোনও ভোটার চাইলে প্রতিনিধির মাধ্যমে নথি জমা দিতে পারবেন। প্রতিনিধি হিসেবে বিএলএ, পরিবারের সদস্য বা ভোটারের অনুমোদিত অন্য কেউ থাকতে পারবেন। তবে সেই ক্ষেত্রে অনুমতিপত্রে সংশ্লিষ্ট ভোটারের স্বাক্ষর বা আঙুলের ছাপ থাকতে হবে।শুনানিতে রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি হিসেবে বুথ স্তরের এজেন্টদের উপস্থিতির দাবিও মেনে নিয়েছে আদালত।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর নির্বাচন কমিশন ও বিজেপিকে কটাক্ষ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। বারাসতের সভা থেকে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ তৃণমূলের দাবি মেনে নিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। তথ্যগত অসঙ্গতির তালিকা প্রকাশ করতে বলা হয়েছে এবং এজেন্টদের শুনানিকেন্দ্রে থাকার অনুমতিও দেওয়া হয়েছে। এক কোটি নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। এই জয় বাংলার মানুষের জয়।”

Related Articles