বাসন্তী পুজো থেকে অকালবোধন! বৈকুন্ঠপুুর জঙ্গলে লুকিয়ে প্রাচীন বনদুর্গার মন্দির
দেবী নিদ্রিত থাকেন বলে তাঁর বোধন করে অর্থাৎ তাঁকে জাগিয়ে পুজো করতে হয়।
Truth Of Bengal: বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো। হিন্দু পাঁজি অনুসারে দুর্গাপুজোর বিধিসম্মত সময় হল চৈত্রমাস। চৈত্রমাস বসন্ত ঋতুর মধ্যে পড়ে। তাই চৈত্রমাসে দুর্গার যে পুজো হয় তা বাসন্তীপুজো নামে পরিচিত। রামচন্দ্র লঙ্কার রাজা রাবণকে বধ করার আগে দেবী পার্বতীর কাছে আশীর্বাদ প্রার্থনা করে তাঁর পূজা করেছিলেন। সময়টা ছিল শরৎকাল। শ্রাবণ থেকে পৌষ, এই ছ’মাস চলে সূর্যের দক্ষিণায়ণ অর্থাৎ সূর্যের গতি থাকে দক্ষিণদিক দিয়ে। আর মাঘ থেকে আষাঢ়, এই ছ’মাস চলে সূর্যের উত্তরায়ণ অর্থাৎ সূর্যের গতি থাকে উত্তরদিক দিয়ে। দেবতাদের কাছে উত্তরায়ণ হল দিন আর দক্ষিণায়ণ হল রাত্রি।
রাত্রিকালে দেবীদুর্গা নিদ্রিত থাকেন। সেই অর্থে এই দক্ষিণায়ণের সময়টুকু অকাল। দেবী নিদ্রিত থাকেন বলে তাঁর বোধন করে অর্থাৎ তাঁকে জাগিয়ে পুজো করতে হয়। শরৎকালে দুর্গাপুজো অসময়ের পুজো বলেই একে ‘অকালবোধন’ বলা হয়। আসন্ন শারদীয় দুর্গাপুজোর প্রাক্কালে এই প্রতিবেদনে তুলে ধরব প্রাচীন বন দুর্গার মন্দিরের কথা। উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলায় হিমালয় পাহাড়ের কোলে অবস্থিত বৈকুন্ঠপুর জঙ্গল। শিলিগুড়ির অদূরে বৈকুন্ঠপুর জঙ্গলের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে মহানন্দা আর তিস্তা নদী। জীববৈচিত্র্য অসাধারণ এই বৈকুন্ঠপুর জঙ্গলের ভেতরে বোড়াগঞ্জের প্রত্যন্ত মেচাপাড়া এলাকায় আছে শালেশ্বরী বন দুর্গার মন্দির।
রহস্য ঘেরা প্রাচীন মন্দিরে বহুকাল ধরেই পূজিতা বন দুর্গা। এই মন্দিরে মা দুর্গা ২ রূপে পূজিত হন। গর্ভগৃহে মা দুর্গা ছাড়াও পূজিত হন মা কালী ও মা শীতলা। বাঘের ওপর আসীন আড়াই ফুট লম্বা মা বন দুর্গার বিগ্রহ। পাশেই রাখা আছে ২১ ইঞ্চির কালো কষ্টিপাথরের দশভুজা দুর্গার মহিষাসুরমর্দিনী মূর্তি। মন্দিরে রয়েছে নারায়ণশীলা, গঙ্গা, যমুনা, দেবাদিদেব মহাদেব, পীরবাবা ও বিশ্বকর্মার বিগ্রহও।
প্রাচীন মন্দিরে প্রতি বছর অগ্রহায়ণ মাসে সাড়ম্বরে বন দুর্গার পুজো করা হয়। শরতে দুর্গাপুজোর সময়ও মা বন দুর্গার আর দশভুজা দুর্গার মহিষাসুরমর্দিনী রূপের পুজো করা হয়। মন্দির চত্বরে রয়েছে প্রাচীন সুউচ্চ শাল গাছ। গাছের গুঁড়িতে মনস্কামনা জানিয়ে লাল সুতো বেঁধে রেখে যান পুণ্যার্থীরা। এক সময় জায়গাটি অনুর্বর ছিল। উর্বরতার কামনায় স্থানীয় বাসিন্দারা শালেশ্বরের পুজো করতেন। শাল গাছকে দেবাদিদেব মহাদেবের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। এক সময় হাতির পিঠে চড়ে জঙ্গলে শিকারে যেতেন মেচাপাড়ার রাজা। তার আগে তিনি প্রাচীন শালগাছের পুজো করে যেতেন।






