Rare Interview: এক বিপ্লবীর দুষ্প্রাপ্য এবং অমূল্য সাক্ষাৎকার
তাঁর নেওয়া সেই অমূল্য সাক্ষাৎকারটি এখানে হুবহু তুলে ধরা হল।
অসীম কুমার মিত্র: ১৯১৪ সালের ২৬শে আগস্ট রডা কোম্পানির অস্ত্র লুঠ হয়। সেই অস্ত্র লুঠের ঘটনায় বিপ্লবী হাবু মিত্রের এক সহযোগী ছিলেন বিপ্লবী হরিদাস দত্ত, যিনি গরুর গাড়ির চালক হয়ে লুঠ করা অস্ত্রগুলি নিয়ে বিপ্লবীদের গোপন ডেরায় পৌঁছে দিয়েছিলেন। ওই ঘটনার বহু বছর পর তিনি একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন তাঁর সহযোগী হাবু মিত্রের বিষয়ে। সাক্ষাৎকারটি (Rare Interview) নিয়েছিলেন শিবায়ন কাব্য প্রণেতা এবং রসপুর রায়বংশের কৃতি সন্তান কবিচন্দ্র রামকৃষ্ণ রায়ের বংশধর লোকসংস্কৃতি গবেষক ও গ্রন্থ প্রণেতা এবং লেখক হাওড়া জেলার আমতা থানার রসপুর গ্রাম নিবাসী পাঁচুগোপাল রায়। তাঁর নেওয়া সেই অমূল্য সাক্ষাৎকারটি এখানে হুবহু তুলে ধরা হল।
হাবু মিত্রের শেষ পরিণতি জানার ইচ্ছায়, আমি এক দিবস বিপ্লবী হরিদাস দত্তের সহিত সাক্ষাৎ করিতে তাঁহার বাড়িতে গিয়েছিলাম। তখন তিনি অত্যন্ত বৃদ্ধ। তিনি নিজে লিখিতে অক্ষম হওয়ায় তাঁহার বিবৃতি তিনি আমায় লিখিয়া লইতে বলেন। তাঁহার কথা অনুসারে তিনি মুখে মুখে বিবৃতি দিলে আমি লিখিয়া লই এবং সেই লিখিত বিবৃতির নিম্নে তিনি স্বাক্ষর করিয়া দেন।
তাঁহার বিবৃতি নিম্নে দেওয়া হইল।
২৫শে মে ১৯৬৮
শ্রী শ্রীশ মিত্র ও ‘হাবু’ একই ব্যক্তি
‘ শ্রী শ্রীশ চন্দ্র মিত্র ও স্বাধীনতা সংগ্রামে কলিকাতায় পিস্তল লুঠ (১৯১৪)’ পুস্তকখানিতে নরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় মহাশয় যে বর্ণনা করিয়েছেন তাহা সর্বাংশে সত্য নয়। নরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন সর্বাপেক্ষা বয়:কনিষ্ঠ এবং সমস্ত ঘটনা তিনি অবগত ছিলেন না। শ্রী শ্রীশ মিত্র মহাশয় বিপিন গাঙ্গুলী মহাশয়ের সহকর্মী ছিলেন। রডা পিস্তল লুঠের পূর্বে বিপিনবাবু শ্রীশ চন্দ্রকে দুইটি বাক্স ভর্তি গুলি (টোটা) সংগ্রহ করিতে পাঠাইয়াছিলেন তাহা আমি অবগত নহি।
অস্ত্র সংগ্রহের এরূপ চেষ্টা হয়তো আগেও হইয়া থাকিতে পারে। রডা অস্ত্র অপহরণের কালে আমি (হরিদাস বাবু) গাড়ির গাড়োয়ান ছিলাম। রডা অস্ত্র লুণ্ঠনের পর, শ্রীশ মিত্র মহাশয় কে আসামের গোয়ালপাড়া জেলায় পাহাড় -এ ধীরেন রাভার বাড়িতে পাঠাইয়া দেওয়া হয়। আমার (হরিদাস বাবুর) ছোট ভাই স্বর্গীয় যামিনীকান্ত দত্ত ও নীলকমল বৈরাগীর সঙ্গে বীরেন রাভার বাড়িতে যান। বীরেন রাভা মহাশয় পার্বত্য জাতীয় লোক ছিলেন। সেখানে কিছুদিন থাকিয়া আসাম বর্ডার পার হইয়া চীন দেশে যাইবার সময় সীমান্তরক্ষী পুলিশের গুলিতে প্রাণত্যাগ করেন (Rare Interview)। বীরেন রাভা মহাশয়কে পুলিশে ধরে।
বীরেন রাভা মহাশয় বলেন, পথ দেখাইয়া দিবার জন্য তাঁহাকে অর্থ দেয়া হয়। সেই কারণে তিনি তাঁহাকে পথ দেখাইয়া দিতে আসেন। ইহা ব্যতীত তিনি অন্য কোন কিছু অবগত নন। বীরেন রাভা মহাশয়ের বাড়িতে যাইবার পূর্বে রংপুর জেলার নাগেশ্বরী থানার অধীন নাগেশ্বরী গ্রামে ডাক্তার সুরেন্দ্রনাথ বর্ধনের বাড়িতে শ্রীশ মিত্র মহাশয় কিছুদিন অবস্থান করেন। পুলিশ কিছুদিন পরে ইহা জানতে পারিয়া সুরেন্দ্র বর্ধন মহাশয়ের বাড়ি ঘেরাও করে কিন্তু পূর্বেই ওই স্থান হইতে শ্রীশ বাবু পালাইয়া যান। শ্রীশ মিত্রের সম্বন্ধে জিজ্ঞাসিত হইয়া সুরেন বাবু বলেন, তাহার একমাত্র ভাই সেখানে চাকুরীর চেষ্টায় আসিয়াছিলেন বটে কিন্তু পূর্বদিনে সে স্থান হইতে চলিয়া গিয়াছেন। ডাক্তার সুরেন্দ্র বাবু এখনও জীবিত আছেন এবং বিহার বর্ডার এর কাছে সুভাষগঞ্জে, ওয়েস্ট দিনাজপুর ডিস্ট্রিক্টে বাড়ি করিয়া বসবাস করিতেছেন। ডাক্তার সুরেনবাবুই শ্রীশ মিত্র কে বীরেন রাভার বাড়ীতে পাঠাইয়া দেন।
শ্রী হরিদাস দত্ত




