পরিবেশবান্ধব জগদ্ধাত্রী পুজোর পথে চন্দননগর, বাজি ও ডিজে বক্সে নিষেধাজ্ঞার বার্তা
শনিবার চন্দননগরে কেন্দ্রীয় জগদ্ধাত্রী পুজো কমিটির সদস্যদের সঙ্গে এক বৈঠক করে মঞ্চের প্রতিনিধি দল।
Truth Of Bengal: তরুণ মুখোপাধ্যায়, হুগলি: জগদ্ধাত্রী পুজোকে সামনে রেখে পরিবেশ সচেতনতার বার্তা নিয়ে এগিয়ে এল বাজি ও ডিজে বক্স বিরোধী মঞ্চ। শনিবার চন্দননগরে কেন্দ্রীয় জগদ্ধাত্রী পুজো কমিটির সদস্যদের সঙ্গে এক বৈঠক করে মঞ্চের প্রতিনিধি দল। বৈঠকে তাঁরা আবেদন জানান, পুজোর সময় যেন সরকারি নির্দেশ ও আদালতের রায় মেনে ডিজে, জেবিএল বক্স বা অতিরিক্ত শব্দসৃষ্টিকারী মাইক ব্যবহার না করা হয় এবং সব ধরনের বাজি ফাটানো থেকেও বিরত থাকা হয়। মঞ্চের পক্ষ থেকে আরও পরামর্শ দেওয়া হয়, পুজো শেষে কেন্দ্রীয় কমিটি যেসব পুজো কমিটিকে পুরস্কার বা সম্মাননা প্রদান করে, সেখানে পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকেও পুরস্কারের মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।বৈঠকে অংশ নিয়ে মঞ্চের সহ-সভাপতি শুভময় ঘোষাল বলেন, ‘ চন্দননগরের মানুষ সংস্কৃতিপ্রিয় ও সচেতন। আমরা আশা রাখি, পুজো কমিটিগুলিও শহরের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির মর্যাদা বজায় রেখে বাজি ও বক্স ব্যবহারে সংযম দেখাবেন।‘
মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক গৌতম সরকার জানান, ‘ চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজো দেশের ঐতিহ্যবাহী উৎসবগুলির অন্যতম। আমরা চাই, এখানে পরিবেশ ভাবনাতেও যেন দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়। গত বছর কিছু জায়গা থেকে উচ্চ শব্দের অভিযোগ পেয়েছিলাম, এবছর তা যেন আর না ঘটে সেই প্রত্যাশাই করছি।‘ মঞ্চের বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় জগদ্ধাত্রী পুজো কমিটির সম্পাদক শুভজিৎ সাউ।
তিনি বলেন, ‘ আমাদের অধীনে প্রায় ১৮০টি পুজো কমিটি আছে। আমরা সকল কমিটির কাছে আবেদন জানাব, যেন বাজি, ডিজে বা জেবিএল বক্স ব্যবহার না করা হয়। আমাদের লক্ষ্য— এক পরিবেশবান্ধব জগদ্ধাত্রী পুজো।‘ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শ্যামল কুমার ঘোষ জানান, ‘ আগের তুলনায় মানুষ অনেক বেশি সচেতন হচ্ছেন। গত বছর বেশিরভাগ পুজো কমিটিই নিয়ম মেনেছিলেন। আশা করি, এবারও সবাই পরিবেশের দিকটি মাথায় রেখে সেই দৃষ্টান্ত বজায় রাখবেন।‘ চন্দননগরের ঐতিহ্যবাহী জগদ্ধাত্রী পুজোতে এবার তাই শুধু আড়ম্বর নয়, পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ নিয়েও জোর দিচ্ছেন আয়োজকরা।






